নবকণ্ঠ ডেস্কঃ গত নভেম্বরে ইসরাইল-ফিলিস্থিন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ক্রমন্বয়ে বিক্রি কমা শুরু করেছে কোকাকোলা ও পেপসি এর। অপর দিকে এই বাজার আয়ত্বে আসছে দেশীয় কোলা ব্রান্ডগুলোর।
দেশীয় প্রতিষ্ঠান আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কোম্পানির কোমল পানীয়ের ব্র্যান্ড মোজো এর উই সাপোর্ট প্যালেস্টাইন ক্যাম্পেইন চালু করার পর তা ভোক্তা মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে। প্রতি বোতল সফট ড্রিংকস বিক্রি থেকে এক টাকা করে ফিলিস্তিনিদের জন্য গঠিত তহবিলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আকিজ বেভারেজ। এতে করে বাংলাদেশের মানুষের ফিলিস্তিনের প্রতি গভীর সহমর্মিতাকে কাজে লাগাতে পেরেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ইতোমধ্যে এর প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে বাজারে। আকিজ ফুডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মো. মাইদুল ইসলাম বলেন, “এই ক্যাম্পেইন শুরুর পর থেকেই আমরা ভোক্তাদের অকল্পনীয় সাড়া পেয়ে অভিভূত। ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের আগের সময়ের চেয়ে আমাদের বেচাবিক্রি বেড়েছে কয়েক গুণ ।”
আরও পড়ুনঃ আবারও বিতর্কিত হচ্ছে আড়ং
আরও পড়ুনঃ কেএফসি ডুবিয়ে বয়কট এর শক্তি দেখিয়ে দিল মালয়েশিয়া
ক্যাম্পেইনটি চালু হওয়ার পর থেকে এই পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য গঠিত তহবিলে যোগ হয়েছে ১৪,৫৮৮,৯৯৪ টাকা (১৯ এপ্রিল, রাত: ৮: ৫০)।
বহু বছর ধরেই বাংলাদেশিরা কার্বনেটেড পানীয়ের জন্য পেপসি নয়তো কোকাকোলার দিকে হাত বাড়িয়েছেন। কিন্তু, গাজায় ইসরায়েলি অভিযান শুরুর পর থেকেই অনেক বাংলাদেশি ভোক্তা সামাজিক মাধ্যমে ফিলিস্তিনের সাথে সহমর্মিতা প্রকাশ করে ইসরায়েলের সাথে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ধারণা করা হয় এমন সব পশ্চিমা কোম্পানির পণ্য বর্জনের কথা বলেছেন।
সারেজমিনে, দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের বাজারে বিভিন্ন ছাড় দিয়েও বিক্রি বৃদ্ধি করতে পারছে কোক ও পেপসির বিক্রয় প্রতিনিধিরা। সাধারণত শীতকালে যখন কোমল পানীয়ের বেচাবিক্রি কম থাকে, তখন বিভিন্ন ধরনের অফার দেয় কোম্পানিগুলো। এসব অফারে কোল্ড ড্রিংকসের প্রতিটি কেস কিনলেই পাঁচ থেকে সাতটি বোতল বেশি পান খুচরা বিক্রেতা দোকানি। কিন্তু, সাম্প্রতিক সময়ের এমন অফারেও বিক্রি বাড়ানো যাচ্ছে না ।
কোমল পানীয় বিপণনকারীদের করা বাজার গবেষণা বলছে, ইসরায়েল- হামাস যুদ্ধের আগে দেশের কোলা বাজারে অগ্রণী অবস্থান ছিল কোকাকোলার, প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার অনুমিত এই বাজারের ৪২ শতাংশই ছিল তাদের দখলে। তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত কোকাকোলার মার্কেট শেয়ার অন্তত ২৩ শতাংশ কমেছে।
দেশের বিভিন্ন বড় গ্রুপ– আকিজ, পারটেক্স, প্রাণ এবং মেঘনাসহ কার্বনেটেড কোমল পানীয়ের বাজারের স্থানীয় প্রতিযোগীরাও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। বাজারের আনুমানিক বার্ষিক মূল্যে তারা ৫ হাজার কোটি টাকা অবদান রেখেছে।
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
