নবকণ্ঠ ডেস্কঃ তীব্র গরমে একটু স্বস্তির খোঁজ করছেন দেশের মানুষ। উচ্চবিত্তরা এসি কিনে নিলেও মধ্যবিত্তরা ঝুঁকেছেন এয়ার কুলারের দিকে। দামে এসি থেকে কম এবং চটকদার বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পা দিয়ে এই গরমে ঠান্ডা বাতাসের জন্য ও এসির বিকল্প হিসেবে এয়ার কুলার কিনে প্রতারিত হচ্ছেন অনেকে। যারা উচ্চ মূল্যে এসব কেনার পর বুঝতে পারছেন প্রতারিত হয়েছেন তারা আবার সমান্য ক্ষতিতে আবার বিক্রি করে দিতে চাচ্ছেন।
সোস্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ক্রয়-বিক্রয় গ্রুপে সদ্য ব্যাবহৃত এয়ার কুলারের পোস্ট দেখা যাচ্ছে অহরহ। অধিকাংশ আবার বিক্রির কারণ হিসেবে খোঁড়া যুক্তি দেখানো হচ্ছে। এতে হাস্যরসের সৃষ্টি হচ্ছে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে।
আরো পড়ুনঃ এসি’র মাপকাঠি টন হলো কেন?
বিক্রি করার অদ্ভুদ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে, বেশিরভাগেরই বিদেশে ভিসা হয়ে গেছে, কারো বাবা বা স্বামী আরেকটা কিনে নিয়ে আসছে, কাউকে বাবা মা বকা দিচ্ছে, নানাভাবে নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়েছে এমন নানা অযুহাত দেখালেও বিক্রির পোস্টে আসল সত্যটা কেউ বলছেনা।

ফেসবুকে পুরাতন জিনিস পত্র বিক্রির গ্রুপে পোস্ট করে একজন লিখেছে, এই গরমে তাকে খুব সস্থি দিচ্ছিল এই এয়ার কুলারটি। তবে হঠাৎ করেই তার নরওয়ের ভিসা হয়ে গেছে। যেখানে খুবই ঠান্ডা তাই এটি তার প্রয়োজন হচ্ছে না। তাই বিক্রি করে দিতে চাচ্ছেন।
নতুন কেনা এয়ার কুলার বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়ে এক মহিলা লিখেছে, পাচ বছরের বিবাহিত জীবনে হাসবেন্ড আমাকে না জানিয়ে কখনো কিছু কিনে নাই। কিন্তু পরশু আমার জন্মদিনে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য এয়ার কুলার টা কিনে আনছে।
এয়ার কুলার আমার একদম পছন্দ না, তাই রাগ করে এটা বিক্রি করে দিয়ে AC কিনবো। মাত্র দুই দিন ইউজ করেছি, অনেক ঠান্ডা বাতাস দিবে শরীর শীতল হয়ে যাবে অল্প কিছুক্ষন চললে। জিনিস ভালোই তবে হাসবেন্ড আমার সাথে পরামর্শ না করে কিনছে, তাই বিক্রি করে দিবো। কেনার জন্য কেউ আগ্রহী থাকলে কাইন্ডলি নক করবেন।
অন্য একজন পোস্টে জানিয়েছে, তার শ্বশুরের কাছে এসি চেয়েছিল। কিন্তু মধ্যবিত্ত শ্বশুর এসির বদলে কম বাজাটে এই এয়ার কুলারটি দিয়েছে কিন্তু তার আশে পাশের লোকজন এটাকে যৌতুক নেয়া বলছে বলে তার খারাপ লাগছে। তাই এখন বিক্রি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আরো পড়ুনঃ দুবাইতে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিপাত দুর্যোগ না অভিশাপ?
আরো পড়ুনঃ চাকরি করতে গিয়ে স্থায়ী হওয়া যায় যেসব দেশে
আকাশ আহরিমান নামে আরেক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘এই জিনিসটা পরশু শ্বশুরের জন্য কিনে এনেছিলাম। ঘর একদম বরফের মতো ঠান্ডা করে দেয়। কিন্তু আজ ওনাকে ডাক্তার দেখানোর পর ডাক্তার বললো, ওনার এইসব এয়ার কুলারের বাতাস লাগানো একবারেই যাবেনা, তাই এটা আর কোনো কাজে লাগছেনা, বিক্রি করে দিবো।’
মাসোক রানা নামের আরেক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘এইটা কেনার একদিন পরেই লটারিতে আরেকটা পেয়েছি, তাই সেল করে দেবো।’
এদিকে এয়ারকুলার বিক্রির এমন পোস্ট নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আলিফ শেখ নামের এক ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন, ‘যেই কেনে তারই ভিসা হয়ে যাচ্ছে, রহস্যটা কী রে ভাই।’ আরেক ব্যক্তি লিখেছেন, আপনার যদি ভিসা না হয় তবে দ্রুত একটা এয়ারকুলার কিনুন, ভিসা হয়ে যাবে।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
