দুবাইতে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিপাত দুর্যোগ না অভিশাপ?

দুবাইতে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিপাত দুর্যোগ না অভিশাপ?

নবকণ্ঠ ডেস্কঃ স্মরণকালের রেকর্ড বৃষ্টিপাতে নজিরবিহীন বন্যা দেখা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাই শহরে। মঙ্গলবার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ১শ’ ৪২ মিলিমিটার (৫.৫৯ ইঞ্চি) এরও বেশি ঝড়োবৃষ্টি ৩০ লাখেরও বেশি লোকের আবাস দুবাইকে প্লাবিত করে দিয়েছে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ১শ’ ২৭ মিলিমিটার (৫ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত হয়েছে, যেখানে সাধারণত পুরো বছরে প্রায় ৭৬ মিলিমিটার (৩ ইঞ্চি) বৃষ্টি ঘটে থাকে সেখানে দুবাই থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরের শহর আল-আইনে ২৪ ঘণ্টায় ২৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে এবারে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে।

গবেষকরা এমন নজীরবিহিন বৃষ্টিপাতের কারণ কি সে সম্পর্কে এখনো ধোয়াশার মধ্যে আছেন। রেডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়াবিদ অধ্যাপক মার্টেন অ্যাম্বাউম এটিকে বিরল বৃষ্টি পাতের ঘটনা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা ওখানকার এই চরম আবহাওয়ার পেছনে দেশটিতে চালানো সাম্প্রতিক ক্লাউড সিডিং অপারেশনকে দায়ী করছেন। তবে এমন দুর্যোগের মূল কারণ সুনির্দিষ্ট করে বলার জন্য একটি সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন, যা করতে কয়েক মাস সময় লেগে যাবে।

আরব আমিরাতের দুবাই শহর প্রাকৃতিক ভাবে অত্যান্ত অসহিষ্ণু অঞ্চল যার পুরোটা গড়ে উঠেছে কৃত্রিম কলা-কানুনের মাধ্যমে। ক্রম বর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে অতিরিক্ত পানির প্রয়োজন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। একারণে গত কয়েক বছর ধরেই প্রযুক্তির সাহায্যে এখানে কৃত্রিম ভাবে বৃষ্টিপাত ঘাটানো হচ্ছে। তাই এ ধারণা অমূলক নয় যে এসব কারণে প্রকৃতিতে এমন বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে।

বাংলাদেশে যখন প্রচন্ড গরম ও তীব্র দাবদাহে জীবন অতিষ্ট তখন একই মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়েও আরব আমিরাতে সম্পূর্ণ বিপরিত চিত্র। বিগত কয়েক বছরেও ভারত ও বাংলাদেশ তীব্র খরা, অকাল বন্যাসহ জলবায়ুর অসামঞ্জতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটির কারণও আরব-আমিরাতের কৃত্রিম ভাবে বৃষ্টিপাত ঘটানো কি না? এ সম্পর্কে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও তথ্যের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

উল্লেখ্য ক্লাউড সিডিং এর মাধ্যমে কৃত্রিম ভাবে বৃষ্টিপাত ঘটানো হয়। এটি এমন একটি প্রযুক্তিগত পদ্ধতি, যা আকাশে বিদ্যমান মেঘগুলোকে আরও বৃষ্টি তৈরির জন্য প্রভাবিত করে। এটির জন্য উড়োজাহাজ দিয়ে সিলভার আয়োডাইডের ছোট ছোট কণা মেঘের মাঝে ছেড়ে দেওয়া হয়। তারপর খুব সহজেই জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিতে পরিণত হয়।

তাই প্রশ্ন উঠছে দুবাইতে এই অতি বৃষ্টিপাত কি স্বাভাবিক কোন দুর্যোগ নাকি মানবসৃষ্ট কারণে হওয়া প্রকৃতির অভিশাপ।

-191

 

 

নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.