এসি'র মাপকাঠি টন হলো কেন?

এসি’র মাপকাঠি টন হলো কেন?

নবকণ্ঠ ডেস্কঃ সারাবাংলাদেশে চলছে তীব্র তাপাদাহ। গরমে হাপিতেস করছেন সকলে। এমন অবস্থায় হয়তো ভাবছেন এই গরমে একটা এসি কিনতে পাররে মন্দ হতো না। আর এসি কিনবেন বলে যখন সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করছেন তখনো মাথায আসবে কত টন এসি কিনতে? কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন এসি পরিমাপের হিসাব টন কেন হলো?

লোহালক্কর, সিমেন্ট এসবের বেচাকেনায় একক হিসেবে যে ‘টন’ ব্যবহৃত হয়, সেটা সকলেরই জানা। কিন্তু বরফকল কিংবা এয়ার কন্ডিশনারের ঠান্ডা করার ক্ষমতা যখন জানানো হয় ‘টন’-এ, তখন পড়তে হয় দ্বন্দ্বে। ঠান্ডা করার ক্ষমতার সাথে ভারি বস্তু বেচাকেনার যোগাযোগ যে কোথায় তা সাধারণ বুদ্ধিতে বোধগম্য হয় না।

দ্বন্দ্ব দূর করতে হলে প্রযুক্তির ইতিহাসের পাতা ওল্টাতে হবে এবং এটা করলে যে তথ্য উঠে আসবে তা শুধু যে কৌতূহলপ্রদ তাই নয়, রীতিমতো আশ্চর্যজনকও !
আসলে, ঠান্ডা-যন্ত্রের ক্ষমতা মাপার ‘দায়িত্ব’ টন-এর ওপর বর্তেছিল স্রেফ বিক্রি বাড়ার খাতিরে ! বিপণনের চাপ না থাকলে হিমায়ন ক্ষমতার মাপকাঠি হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসত অন্য কোনো একক।

ভারি জিনিস মাপার একক টন কীভাবে হিমায়ন ক্ষমতার একক হিসেবেও আধিপত্য বিস্তার করল সেই আশ্চর্য কাহিনি এবার সংক্ষেপে বলা যাক।
সময়ের স্রোত উজিয়ে পেছিয়ে যেতে হবে প্রায় দেড়শো বছর। তখন ঠান্ডা করার একমাত্র পন্থা ছিল প্রাকৃতিক বরফ প্রয়োগ। বরফ আমদানি করা হত ঠান্ডা এলাকা থেকে। যান্ত্রিক উপায়ে শৈত্য সৃষ্টির পদ্ধতি উদ্ভাবনের হাত ধরেই হিমায়ন শিল্পের (রেফ্রিজারেশন ইন্ডাস্ট্রি) যাত্রা শুরু হযেছিল । প্রাথমিক পর্বেই এক বিচিত্র সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল হিমায়ন শিল্পকে ।

দীর্ঘকাল যাবৎ বরফ ব্যবহার করার কারণে ঠান্ডা করার কোন কাজে কত টন বরফ লাগবে সেই ব্যাপারে সকলেরই সোটামুটি ধারণা তৈরি হয়ে গিয়েছিল। হিমায়ন শিল্পের কারিগররা উপলব্ধি করলেন, যদি বরফের পরিমাণ দিয়ে যন্ত্রের ক্ষমতা জানানো হয় তবেই কেবল ক্রেতারা সেটা বুঝতে পারবে। ক্রেতাদের বোঝার পরিধির বাইরে অন্য কোনো মাপকাঠিতে ‘কুলিং পাওয়ার’ প্রকাশ করলে বিক্রির হার লাটে উঠবে এবং মুখ থুবড়ে পড়বে নবজাত এই শিল্প। হিমায়ন ক্ষমতার সহজবোধ্য মাপকাঠি কী হবে তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে গভীর চিন্তা-ভাবনা শুরু হয় ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দ থেকেই।

শূণ্য ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতার বরফ থেকে একই উষ্ণতার পানি বানাতে প্রয়োজন তাপের। এই তাপের যোগান যদি আসে ঘরের বাতাস থেকে তাহলে শীতল হবে ঘর। সারাদিনে (অর্থাৎ ২৪ ঘন্টায়) ১ টন বরফ গলাতে যে তাপ লাগে তাকেই বলা হয় 1 হিমায়নের টন (প্রযুক্তির ভাষায়, ‘ওয়ান টন অফ রেফ্রিজারেশন’, সংক্ষেপে ১ TR)। এক হিমায়নের টন প্রায় ৩.৫ কিলোওয়াটের সমতুল্য।

সহজবোধ্যতার কারণে হিমায়ন ক্ষমতার মাপকাঠি হিসেবে টন গ্রহণীয় হল সাধারণ মানুষের কাছে। সময়ের সাথে ধীরে ধীরে সাবালক হল হিমায়ন শিল্প। বিশ শতকের শুরুতেই উদ্ভাবিত হল এয়ার কন্ডিশনার। চলতি ধারা বজায় রেখে টন দিয়েই এয়ার কন্ডিশনারের ক্ষমতা বলা হতে থাকল। সেই ট্র্যাডিশন এখনও চলছে।

-191

 

 

নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.