নবকণ্ঠ ডেস্কঃ দীর্ঘদিনের জটিলতা ও হয়রানির অবসান ঘটিয়ে পাসপোর্ট জারি ও নবায়নের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনের বাধ্যবাধকতা বাতিল করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের এক সভায় এ সংক্রান্ত নির্দেশনা চূড়ান্ত হয়েছে, যা পাসপোর্ট প্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত করবে বলে আশা করা যায়। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ব্রিটিশ আমল থেকে চালু পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রথা নাগরিকদের জন্য পরিণত হয়েছিল এক যন্ত্রণায়। পাসপোর্টের জন্য আবেদন করলে স্থানীয় পুলিশের তদন্তে সময় লাগত ১-২ মাস। এছাড়া, রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান যাচাইয়ের নামে বৈষম্যের শিকার হতেন অনেকেই। প্রায় ১৬ হাজার পাসপোর্ট আবেদন এই জটিলতায় আটকে ছিল বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন ও পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে এই বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইতিমধ্যে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) প্রক্রিয়ায় জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার মাধ্যমে পাসপোর্ট ইস্যুর প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিগগিরই ই-পাসপোর্ট চালু করে আবেদনকারীর ঠিকানায় সরাসরি পাসপোর্ট পৌঁছে দেওয়া হবে, যা উন্নত বিশ্বের মতোই স্বয়ংক্রিয় ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া।
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরী বলেন, “পাসপোর্ট নাগরিকের অধিকার, এতে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যাচাই অগ্রহণযোগ্য।” অন্যদিকে, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কম্পিউটারাইজড ডেটাবেইস ব্যবহার করে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্তদের সনাক্ত করা সম্ভব হবে, যা ভেরিফিকেশনের প্রয়োজনীয়তা কমাবে।
এই সিদ্ধান্ত দুর্নীতি রোধ ও নাগরিক সেবাকে গতিশীল করতে মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য নিয়ে আসবে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বস্তি।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
