নবকণ্ঠ ডেস্কঃ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনের কয়েকজন পরিচিত মুখ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সুরে বক্তব্য দান, গুজব ছড়ানো এবং বর্তমান সরকারের সমালোচনাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের জন্ম দিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগের সমর্থনে এরা ইতিহাসের নৃশংস মতাদর্শ ফ্যাসিবাদের পক্ষে সরব হচ্ছেন এবং বিরোধী আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছেন।
অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন গত কয়েক মাস ধরে সরকারের সমালোচনা ও ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে আসছেন। সম্প্রতি অমর একুশে বইমেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত একটি ডাস্টবিনে সরকারি কর্মকর্তার ময়লা ফেলার ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, *“ভাগ্যিস এই দৃশ্য দেখার জন্য হুমায়ূন আহমেদ নেই।”* এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে নেটিজনদের মধ্যে। এছাড়া, গত নভেম্বরে ছাত্র আন্দোলনকে বিদ্রূপ করে তিনি সংস্কৃত শ্লোক বিকৃত করে লিখেছিলেন, *“ছাত্রনং আন্দোলনং তপঃ”*। পুলিশের কাছে আটক আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান নূরের জন্মদিনে তার ‘ন্যায়বিচার’ চাওয়ার পোস্টও বিতর্ক তৈরি করে।
অভিনেত্রী মাহিয়া মাহি সরকারি কর্মকর্তা শফিকুল আলম এর বইমেলার ডাস্টবিন ইস্যুতে তিনি লিখেছেন, “ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না” এবং এতে রাগের ইমোজি ব্যাবহার করেছেন। এছাড়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের দুর্নীতি মামলা ও পরীমণির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে তার পোস্টে বারবার ‘বাকস্বাধীনতা’র প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী ও দ্বীপান্বিতা মার্টিনের মতো ব্যক্তিরাও ফেসবুকে সরকারবিরোধী বক্তব্য, বইমেলা বয়কটের আহ্বান এবং ছাত্র আন্দোলনকে ‘জঙ্গি কার্যকলাপ’ আখ্যা দিয়েছেন। দ্বীপান্বিতা সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে শেখ হাসিনার একটি পুরনো ছবি ‘সাক্ষাৎকার’ বলে গুজব ছড়িয়েছেন। এছাড়া, নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনের বক্তব্য বিকৃত করে তিনি লিখেছেন, *“দুর্ভিক্ষ হয় ক্রয়ক্ষমতার অভাবে”*—যা সেনের মূল বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত।
এদিকে, কুখ্যাত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ‘আলো আসবেই’-এর সঙ্গে যুক্ত অভিনেত্রী সোহানা সাবা শেখ হাসিনার ভুয়া পদত্যাগপত্র ও মিথ্যা সাক্ষাৎকারের খবর শেয়ার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে মুখ্য অভিযুক্ত। তার পোস্টে সমর্থকরা আনন্দিত হলেও ফ্যাক্ট চেকাররা এসব তথ্যকে পুরোপুরি মিথ্যা প্রমাণ করেছেন।
সামাজিক মাধ্যম বিশ্লেষকরা বলছেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের এহেন ভূমিকা গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ। রাজনৈতিক অস্থিরতায় গুজব ও ফ্যাসিবাদী রেটোরিক সমাজে বিভাজন বাড়াচ্ছে। নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে, গণমাধ্যম ও সেলিব্রিটিদের ভুয়া তথ্য ছড়ানো বন্ধ করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো উচিত।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
