নবকণ্ঠ ডেস্কঃ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিদেশ থেকে ৪,৮১৩ জন প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীর মরদেহ দেশে ফিরেছে, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, বিশেষত সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার থেকে প্রেরিত মরদেহের সংখ্যাই সর্বাধিক। ২০২১ সাল থেকে এ সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে—২০২১ সালে ৩,৮১৮, ২০২২ সালে ৩,৯০৪ এবং ২০২৩ সালে ৪,৫৫২ জনের মৃত্যু হয়। ১৯৯৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৫৬,৭৬৯ প্রবাসীর মরদেহ দেশে এসেছে, যা উদ্বেগজনক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। কেন এত সংখ্যক কর্মী প্রাণ হারাচ্ছেন?
মৃত্যুর কারণ হিসেবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিদেশি কর্তৃপক্ষ ‘হার্ট অ্যাটাক’ এর মতো সাধারণ ব্যাখ্যা দিলেও, তদন্তের অভাবে প্রকৃত কারণ অজানা থেকে যাচ্ছে। প্রবাসীরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চরম তাপমাত্রা, বায়ুদূষণ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং অনিরাপদ কাজের পরিবেশে শারীরিক-মানসিক চাপ বাড়ছে। এছাড়া, নারী কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাদের হাতে শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। অনেক নারীর মৃত্যুর কারণ ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেওয়া হলেও, এসব ঘটনার তদন্ত হয় না বলেই অভিযোগ।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করা হচ্ছে। বিদেশে কর্মীদের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি, বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের ওপর চাপানো হয় অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা, যা উঠানোর জন্য তারা নিরন্তর অতিরিক্ত কাজ করেন, বিশ্রামহীন জীবনযাপনে বাধ্য হন।
মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রবাসীদের একটি বড় অংশ জানান, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের অধিকারের জন্য দাবি জানালেও তা উপেক্ষিত হয়। বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোর ভূমিকাও প্রশ্নের সম্মুখীন। বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, বিদেশি সরকার ও নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা জোরদার, তদন্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা এবং মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি প্রয়োজন। অথচ রেমিট্যান্সের ধারাকে ‘অর্থনীতির মেরুদণ্ড’ বলা হলেও, প্রবাসীদের জীবনমূল্য যেন এখনো উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
