"জাকাত ফেতরার চেয়ে চাঁদাবাজি উত্তম"- নিলোফার চৌধুরী মনি'র বক্তব্যে অনলাইন জুড়ে ধিক্কার

“জাকাত ফেতরার চেয়ে চাঁদাবাজি উত্তম”- নিলোফার চৌধুরী’র বক্তব্যে অনলাইন জুড়ে ধিক্কার

নবকণ্ঠ ডেস্ক: বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি একটি টেলিভিশন টকশোতে যাকাত ও ফিতরা সম্পর্কে করা মন্তব্যের জেরে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহলে ক্ষোভের বিস্ফোরণ দেখা দিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘স্টার নিউজ’-এর জনপ্রিয় টকশো ‘কড়া আলাপ’-এ। আলোচনার এক পর্যায়ে জামায়াত নেতা আব্দুল মান্নানের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের সময় তিনি মন্তব্য করেন, “যাকাত বা ফিতরার চেয়ে চাঁদাবাজি অনেক ভালো”—যা মুহূর্তেই বিতর্কের জন্ম দেয়। শুধু তাই নয়, তিনি আরও অভিযোগ করেন যে জামায়াতে ইসলামী নাকি সবার কাছ থেকে যাকাতের অর্থ সংগ্রহ করে থাকে।

তার এই বক্তব্যকে ইসলামের অন্যতম ফরজ ইবাদত যাকাতের অবমাননা হিসেবে দেখছেন অনেকে। ফলে বিভিন্ন মহল থেকে একের পর এক প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। বিশেষ করে ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলো বিষয়টিকে গুরুতর আকারে নিয়েছে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ পরিষদসহ একাধিক ইসলামী দলের নেতারা প্রকাশ্যে এই বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন।

মে ২০২৬-এর শুরুর দিকে সম্প্রচারিত ওই টকশোর ভিডিও ক্লিপ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে হাজার হাজার মানুষ তার মন্তব্যের সমালোচনা করে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। অনেকে এটিকে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য বলে অভিহিত করেছেন, আবার কেউ কেউ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে দেখছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক টকশোতে এমন সংবেদনশীল বিষয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে ধর্মীয় বিধান নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে, যা বর্তমান ঘটনাতেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা দুঃখ প্রকাশ না করলে বিতর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.