নবকণ্ঠ ডেস্কঃ বাংলাদেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নিয়ে রাজনৈতিক চাপ তীব্রতর হচ্ছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জোর দাবি জানাচ্ছে যে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই অবশ্যই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে এবং এ লক্ষ্যে অবিলম্বে একটি সুষ্ঠু রোডম্যাপ ঘোষণা করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার জাপানে এক বক্তৃতায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দাবি করেন, “একটি মাত্র দল ডিসেম্বরে নির্বাচন চায়।” তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে নির্বাচন ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যেই হবে এবং “আগামী বছরের জুনের পর এক দিনও থাকবে না এই সরকার।”
বিএনপি নেতৃত্ব ইউনূসের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, “এক দল নয়; সবাই নির্বাচন চায়। শুধু একজন ব্যক্তি নির্বাচন চান না। তিনি হলেন অধ্যাপক ইউনূস।” বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত বুধবার ঢাকায় এক সমাবেশে স্পষ্ট করে বলেছেন, “ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হতে হবে।” বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনের রোডম্যাপ দাবি করে আসছে এবং গত ২৪ মে প্রধান উপদেষ্টার সাথে তৃতীয় বৈঠকেও এ বিষয়ে স্পষ্ট আশ্বাস না পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
এদিকে, বাংলাদেশে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি চাপ বাড়িয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। গত বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “বাংলাদেশের উচিত দ্রুততম সময়ের মধ্যে জনগণের ইচ্ছা ও ম্যান্ডেট প্রতিষ্ঠা করা।” তিনি ড. ইউনূসের পূর্ববর্তী বক্তব্য – যাতে ভারতকে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছিল – স্পষ্টভাবে নাকচ করে বলেন, “এ ধরনের বক্তব্য সমস্যার সমাধান করে না, বরং দায় এড়ানোর কৌশল বলেই মনে হয়।”
জাতীয় পার্টিসহ পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারঘনিষ্ঠ কয়েকটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলও দ্রুত নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। একাদশ সংসদীয় নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ নিয়ে চলমান এই বিতর্ক এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য একটি সংবেদনশীল মোড় তৈরি করেছে।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

