নবকণ্ঠ ডেস্কঃ ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বঙ্গোপসাগরীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় আধা ঘন্টারও বেশি সময় ধরে চলা এ আলোচনায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, সীমান্ত নিরাপত্তা ও পানি-বণ্টনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে গঠনমূলক আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ভারতে অবস্থানকালে তার উস্কানিমূলক বক্তব্যের বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়। এছাড়া, সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ড ও দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানান, “দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকটি অত্যন্ত ইতিবাচক।”
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর এটিই ড. ইউনূস ও মোদির প্রথম সরাসরি বৈঠক। বিমসটেকের মতো আঞ্চলিক ফোরামে এ ধরনের আলোচনাকে দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা কমানো ও সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের মতো সংবেদনশীল ইস্যু এবং তিস্তার পানি বণ্টনের মতো জটিল বিষয়ে অগ্রগতি নির্ভর করবে উভয় দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছার উপর।
বিমসটেক সম্মেলনে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের নেতারা অংশ নিয়েছেন। আঞ্চলিক বাণিজ্য, সুরক্ষা ও জলবায়ু সহযোগিতা ছিল সম্মেলনের মূল বিষয়। তবে বাংলাদেশ-ভারত বৈঠক স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ভারতীয় মুখপাত্র এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি, তবে আলোচনাকে “বন্ধুত্বপূর্ণ” বলে উল্লেখ করা হয়েছে অভ্যন্তরীণ সূত্রে।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

