নবকণ্ঠ ডেস্কঃ থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ভারত তার কৌশলগতভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডোর (Chicken’s Neck) সুরক্ষায় ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। পশ্চিমবঙ্গের এই সংকীর্ণ ভূখণ্ডটি উত্তর-পূর্ব ভারতের ৭টি রাজ্যকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করেছে। চীন, নেপাল, ভুটান ও বাংলাদেশ দ্বারা বেষ্টিত এই করিডোরের নিরাপত্তা ভারতের জন্য অস্তিত্বগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনী সম্প্রতি শিলিগুড়ি করিডোর সংলগ্ন এলাকায় যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: হাশিমারা বিমানঘাঁটিতে রাফাল ও মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান স্থাপন, ব্রহ্মোস সুপারসনিক মিসাইল রেজিমেন্ট এবং এস-৪০০ বিমান-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা স্থাপন। নিয়মিত ট্যাংক মহড়া ও লাইভ ফায়ার অনুশীলন। ভারতের সেনাপ্রধান এই করিডোরকে “দেশের সর্বাধিক সুরক্ষিত সামরিক অঞ্চল” বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূসের “উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নে বাংলাদেশের ভূমিকা” সংক্রান্ত মন্তব্য এবং চীনের সাথে বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদারের ইঙ্গিত ভারতের মাথাব্যথার কারণ হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ-চীনের ঘনিষ্ঠতা শিলিগুড়ি করিডোরের জন্য কৌশলগত ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
২০১৭ সালের ভারত-চীন ডোকলাম স্ট্যান্ডঅফের সময় শিলিগুড়ি করিডোরের ভঙ্গুরতা প্রকাশিত হয়েছিল। সেই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে ভারত এখন অত্যাধুনিক অস্ত্র, স্যাটেলাইট নজরদারি এবং ২৪×৭ সেনা প্রহরা নিশ্চিত করেছে। গত সপ্তাহে চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান উত্তরবঙ্গ সীমান্ত পরিদর্শন করে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন।
শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার সাথে সরাসরি যুক্ত। এই অঞ্চলে চীনের প্রভাব বিস্তার রোধ ও বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই প্রস্তুতি আঞ্চলিক শক্তি সমীকরণে তার কর্তৃত্ব বজায় রাখার লক্ষ্যেই পরিচালিত।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

