নবকণ্ঠ ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি মুসলমান সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক প্রান্তিকতা নিয়ে সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। শতাব্দী প্রাচীন সহাবস্থানের পরও হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে অপরিচয় ও দূরত্বই মূল সংকট বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশভাগ-পরবর্তী সময়ে শিক্ষিত মুসলিম মধ্যবিত্তের পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) পাড়ি দেওয়ায় এই সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শূন্যতা আজও পূরণ হয়নি।
১৯৪৭-এর পর কলকাতা ও অন্যান্য শহর থেকে মুসলিম জনবসতি গ্রামমুখী হয়। শহুরে এলিট শ্রেণির অনুপস্থিতিতে সমাজের নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি হয়, যা পূরণ করতে ব্যর্থ হয় কংগ্রেস বা বামফ্রন্টের রাজনীতি। বর্তমানে রাজ্যের ৩০% মুসলমান জনগোষ্ঠীর মাত্র ২% শহুরে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত। গবেষণায় দেখা গেছে, কলকাতার সল্ট লেক, লেক টাউনের মতো অভিজাত এলাকায় মুসলিমদের বাড়ি ভাড়া পাওয়ায় বৈষম্য এখনো প্রকট। অনেকেই পরিচয় গোপন করে হিন্দু নাম ব্যবহার করেন, যেমন আমিনা হয়ে যান মীনা, ফিরোজ পরিচিত হন রঞ্জিত নামে।
সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও মুসলমানদের উপস্থিতি প্রায় অনুপস্থিত। নাটক, সিনেমায় তাদের চরিত্র স্টিরিওটাইপড—ভৃত্য, সন্ত্রাসী বা ধর্মান্ধ। অথচ গ্রামীণ মুসলিম সমাজে নারীশিক্ষার হার বাড়লেও চাকরির অভাবে ছেলেরা অন্য রাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। উচ্চশিক্ষিত মেয়েদের বিয়েও হচ্ছে কম শিক্ষিত ছেলেদের সঙ্গে, যা সমাজে নতুন সংকট তৈরি করছে।
রাজনৈতিকভাবে বিজেপি-আরএসএস-এর ইসলামফোবিয়া প্রচারের প্রভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সমাজে মুসলিমবিদ্বেষ বাড়ছে। মহররম বা ঈদ শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হলেই তা সংবাদের শিরোনাম হয়, যেন মুসলমানদের জন্য সহিংসতা স্বাভাবিক! অন্যদিকে, হিন্দু ধর্মীয় রীতির সমালোচনা প্রগতিশীলদের এজেন্ডায় অনুপস্থিত।
তবে আশার কথা, গত এক দশকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষা মিশন গড়ে উঠেছে। মুসলিম তরুণরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছেন। গবেষকরা বলছেন, পারস্পরিক সংলাপ, শিক্ষার সুযোগ ও মিডিয়ায় বৈচিত্র্যময় প্রতিনিধিত্বই এই বিভেদ ঘোচাতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের “সম্প্রীতির রাজনীতি” কেবল উৎসব-ভোজের মধ্যে সীমিত না রেখে বাস্তব জীবনের অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিই এখন সময়ের দাবি।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

