বিশ্বকাপ ফাইনালের আড়ালে, মার্কিন আগ্রাসন উঠছে তুঙ্গে

বিশ্বকাপ ফাইনালের আড়ালে, মার্কিন আগ্রাসন উঠছে তুঙ্গে

নবকণ্ঠ ডেস্ক: ফুটবল বিশ্ব যখন বিশ্বকাপ ফাইনালের উন্মাদনায় মেতে উঠেছে, ঠিক সেই সময় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক তৎপরতা নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, বিশ্বের দৃষ্টি যখন খেলাধুলার সবচেয়ে বড় আসরের দিকে নিবদ্ধ, তখন সেই সুযোগে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করছে ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা। ফলে বিশ্বকাপের আলোচনার আড়ালে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত ইতোমধ্যে আরও তীব্র হয়েছে। জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন এবং চারজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৬ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৪৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, চলতি মাসে শুরু হওয়া সর্বশেষ মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫১৭ জন আহত হয়েছেন। যদিও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও এ বিষয়ে তেহরান এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কোনো সরকারি হিসাব প্রকাশ করেনি। তবে দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, বেসামরিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন অষ্টম দিনে গড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ শান্তিকালে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো ইরানের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলা সংঘাতকে আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে এবং পুরো অঞ্চলকে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে, নজরদারি ও হামলার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত কয়েকটি মার্কিন ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। একই সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় চলাচলের সময় দুটি জাহাজ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

আইআরজিসি আরও সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবাধীন কোনো জাহাজ তাদের ঘোষিত ‘অনিরাপদ জলসীমায়’ প্রবেশ করলে একই ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিশ্বের দৃষ্টি যখন বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো বৃহৎ ক্রীড়া আসরে নিবদ্ধ, তখন একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের ঘটনাটি নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের ভাষ্য, বৈশ্বিক জনমতের মনোযোগ অন্যদিকে থাকা অবস্থায় সামরিক পদক্ষেপের গতি বাড়ানো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বহুবার ব্যবহৃত একটি কৌশল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এ ধরনের অভিযোগ বরাবরের মতোই অস্বীকার করে আসছে।

 

 

নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.