নবকণ্ঠ ডেস্কঃ জুলাই বিপ্লবের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে গণভোট বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ফ্রান্সপ্রবাসী রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা। তাদের মতে, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার নিশ্চিত করতে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় বাস্তবায়ন জরুরি। এই প্রক্রিয়া বিলম্বিত হলে জুলাই আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতি অবমূল্যায়ন করা হবে এবং ভবিষ্যতে নতুন করে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি থেকেই যাবে।
জুলাই বিপ্লব স্মরণে মঙ্গলবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের অদূরে পন্থাঁ এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় ‘জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ফ্রাঙ্কো বাংলা। এতে প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, গবেষক, অ্যাক্টিভিস্ট ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ফ্রাঙ্কো বাংলার সভাপতি শহিদুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দৈনিক কালের কণ্ঠের ফ্রান্স প্রতিনিধি ও কলামিস্ট তানভীর আহমদ তোহা। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পটভূমি, ঘটনাপ্রবাহ এবং এর রাজনৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরেন। বৈঠক সঞ্চালনা করেন ইউরো বার্তার সম্পাদক মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম এবং সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

আলোচনায় অংশ নেন নাগরিক পরিষদ ফ্রান্সের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মীর জাহান, মনোয়ার পাটওয়ারী, বাংলা টেলিগ্রামের সম্পাদক শাহ সুহেল আহমদ, সাংবাদিক হাবীবুল্লাহ ফাহাদ, অনুক্ত সংবাদের সম্পাদক কামরুল, খালেদ মাহমুদ, বিসিএফ প্রেসিডেন্ট মো. নুর, সাংবাদিক রাবেয়া আক্তার সুবর্ণা, মহাকাশ গবেষক একরামুল কবির সালমান, সাংবাদিক সরদার হাসান ইলিয়াস তানিম, এনটিভির ফ্রান্স প্রতিনিধি আবুল কালাম মামুন, ডিবিসি নিউজের ইকবাল জাফর, শাহ সাইফুল ইসলাম, ইয়াসির আরাফাত খোকন, ওয়াদুদ তানভীর, সায়েম জামিল এবং আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার কার্যকর করতে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত না হলে ভবিষ্যতে আবারও স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তাই নতুন কোনো রাজনৈতিক সংকট বা আন্দোলনের পুনরাবৃত্তি এড়াতে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
নাগরিক পরিষদ ফ্রান্সের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর অভিযোগ করে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন এবং দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে গেছেন। তিনি দাবি করেন, এসব শক্তি নতুন পরিচয়ে আবারও রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করতে পারে। এ বিষয়ে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে মিডিয়া ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, অতীতে স্বৈরাচারী শাসনের বৈধতা তৈরিতে গণমাধ্যমের একটি অংশ ভূমিকা রেখেছিল। ভবিষ্যতে সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে গণমাধ্যমকে জনগণের স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মীর জাহান বলেন, দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধারণ করতে হবে। তার মতে, পরাজিত রাজনৈতিক শক্তিগুলো আন্দোলনের অর্জন নষ্ট করতে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র চালাতে পারে। তাই নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও অ্যাক্টিভিস্টদের ঐক্যবদ্ধ থেকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, বহু মানুষের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত এই আন্দোলনের সাফল্য কোনোভাবেই যেন ব্যর্থ না হয়। নতুন করে যেন কোনো স্বৈরতান্ত্রিক শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য শুরু থেকেই প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ইউরো বার্তার সম্পাদক মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম বলেন, ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৬৯, ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের জুলাই—বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এসব ঐতিহাসিক অধ্যায়ের চেতনা ধারণ করে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে হবে এবং সমাজে কোনো ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি করা যাবে না।
সিনিয়র সাংবাদিক ও এটিএন বাংলার ফ্রান্স প্রতিনিধি রাবেয়া আক্তার সুবর্ণা বলেন, জুলাই আন্দোলনে দেশের মানুষের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। দূরে অবস্থান করেও তারা বিভিন্নভাবে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেছেন।
অনুষ্ঠানে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা জুলাই আন্দোলনের আদর্শ সংরক্ষণ, গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং প্রবাসীদের সমন্বিত ভূমিকা আরও জোরদারের আহ্বান জানান।
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
