
এন আই মাহমুদঃ রাশিয়ার একনায়ক কোনো ধরণের প্রয়োজন ছাড়াই হঠাৎ পারমানবিক অস্ত্র প্রস্তুত রাখার ঘোষনা কেন দিলেন তা নিয়ে ওয়াশিংটন সহ অনেক দেশের সরকার গবেষনা করছে। এছাড়াও চলছে অর্থনীতিবিদদের হিসাব নিকাশ।
মূলত ইউরোপীয় জোট অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর সুইফট থেকে রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করার ঘোষনা আসার সাথে সাথেই পুতিন পরমানু অস্ত্রের ভয় দেখালেন।
এ থেকে, রাশিয়ার উপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞাগুলো পরমানু হামলার মতই ভয়াবহ হয়ে উঠছে রাশিয়ার জন্য- এমনটাই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন কোনো দেশ এখনো রাশিয়ায় আক্রমনের ঘোষনা দেয় নি, তবু রাশিয়াকে পরমানু অস্ত্রের ভয় দেখাতে হচ্ছে মূলত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ জব্দ করেছে জাপান। বিভিন্ন দেশের দেয়া নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকেবেলায় জরিমানা দেবে রাশিয়ার জনগণ -এটি নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার ৯ শতাংশ থেকে এক লাফে ২০ শতাংশ করেছে রাশিয়া। এ সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়ার অর্থনীতি কতটা নাজুক পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে তা অনেকটা পরিষ্কার।
রাশিয়ার অর্থ মণত্রণালয় বেসরকারী কোম্পানীগুলোকে তাদের অর্জিত রেমিটেন্সের ২০ শতাংশ বিক্রি করার নির্দেশ দিয়েছে।
রুবলের দরে রেকর্ড পতন ঘটছে। যদিও রাশিয়া ও চীন উভয়েই মার্কিন ডলার থেকে দূরে থাকার নীতি অবলম্বন করে থাকেন, তবে রাশিয়ার পক্ষে ক্রমহ্রাসমান রুবল আকড়ে পড়ে থাকাও কঠিন হবে।
তবে সম্প্রতি বেলারুশ সীমান্তে অনুষ্ঠিত ব্যর্থ শান্তি-আলোচনার পর মস্কোর দেয়া শর্ত সমূহ থেকে বোঝা যায়, পুতিন তার মৌলবাদী নীতি থেকে একচুলও নড়েন নি। রাশিয়ার অর্থনীতির ভোগান্তি দেশটির সাধারণ জনগণ বহন করলেও পুতিন মূলত পুঁজিবাদী আচরণের মাধ্যমেই নিজ বলয়ের মধ্যে সন্তুষ্ট আছেন।
বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া নিজ আকাশসীমায় ৩৬ টি দেশের বিমান চলাচলে উলটো নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
