
নবকণ্ঠ ডেস্কঃ রাশিয়ান পুতিন বাহিনী ইউক্রেনে আরো ভালোভাবে অবস্থান নিচ্ছে। এখনো তাদের প্রধান লক্ষ্য রাজধানী কিয়েভ হলেও তারা খারকিভেও হামলা চালিয়েছে এবং আরো বেশ কয়েকটি শহরের দিকেই তারা অগ্রসরমান রয়েছে।
বিভিন্ন শহরের পথে পথেই যুদ্ধ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে রাশিয়া জানিয়েছে “নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত” তারা থামবে না।
অন্যদিকে জেলেনস্কি ইইউ জরুরি সভায় দৃঢ় কন্ঠে জানিয়েছেন যে কেউ তাদেরকে ভাংতে পারবে না। এসময় তিনি রাশিয়াকে জংগী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণার দাবিও জানান।
ন্যাটো জোট প্রধান বলেছেন, ন্যাটো তার ভূখণ্ডের “প্রতি ইঞ্চি রক্ষা করবে”।
তবে ব্রিটিশ গোয়েন্দারা জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় রাশিয়া বেশ সামান্য অগ্রগতি করেছে। এই অবস্থায়, কি হবে পুতিনের পরবর্তী পদক্ষেপ? অনেকের মতেই পুতিনের সামনে খুব বেশি পথ খোলা নেই। রাশিয়া ইউক্রেন দখল করতে পারলেও তাদের পছন্দের সরকার প্রধানকে দেশটির জনগণ কতটা মেনে নেয় সেটিও দেখতে হবে।
আবার অনেক বিশেষজ্ঞের মতে পুতিন হয়তো ইউক্রেনকে দুই ভাগে বিভক্ত করবে । তবে তার সম্ভাবনা ও কম। কারণ এরূপ পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য যেরূপ প্রশাসনিক সহায়তার দরকার তা পুতিন পাবে কিনা সেটাও ভেবে দেখার বিষয়।
অর্থনৈতিক অবরোধে ইতোমধ্যে রাশিয়ার জনজীবনে ভোগান্তি শুরু হয়ে গেছে। গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, টুইটারের মত জায়ান্ট টেক কোম্পানীগুলো রাশিয়ান সরকারী গণমাধ্যমের প্রচারণা নিষিদ্ধ করেছে, ব্যবহারকারীদের উপার্জন ও বিজ্ঞাপন সেবা বন্ধ হয়ে গেছে।
আর্থিক পরিষেবা ভিসা, মাস্টারকার্ড, কন্টেইনার ও শিপিং জায়ান্ট মায়ের্স্ক, এমএসসি ও হ্যাপাগ লয়েড তাদের সেবা বন্ধ করে দিয়েছে। নরওয়ে সকল রাশিয়ান বিনিয়োগ বাতিল করেছে। এভাবে রাশিয়া ক্রমাগত একঘরে হয়ে পড়ছে। সামনে খুব শীঘ্রই রাশিয়ানদের জন্য ইউরোপীয় জোট ভিসা ব্যান দেয়ার জন্য আলোচনা চলছে।
পুতিনের ইউক্রেন দখলের ফলে রাশিয়া হারিয়ে হিটলারের অবস্থা হয় কিনা তা নিয়েও চলছে আলোচনা। রাশিয়ার বিজনেস জায়ান্টগুলো তাদের রেমিট্যান্স নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছে কারণ, জাপান রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্পদ জব্দ করেছে, ইউরোপীয় জোট সহ, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা রাশিয়ার উপর অবরোধ আরো কঠিন করছে। এমনকি রাশিয়ার একমাত্র সম্ভাব্য বন্ধু পরাশক্তি চীন শেষ পর্যন্ত রাশিয়ান পণ্য ও লেনদেন নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
এমতাবস্থায় রাশিয়ান কোম্পানীগুলোকে রেমিট্যান্সের ২০ শতাংশ বিক্রি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের সুদের হার ৯ শতাংশ থেকে এক লাফে ২০ শতাংশ করা হয়েছে।
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
