নবকণ্ঠ ডেস্কঃ ফল, জুস, বেভারেজ, তামাকপণ্য, রেস্তোরাঁ, মোবাইলের টকটাইম, ইন্টারনেটসহ ৯০টিরও বেশি পণ্য ও সেবার ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার রাতে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে এসব বৃদ্ধি কার্যকর করা হয়েছে। অধ্যাদেশ জারির প্রেক্ষাপটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট বিভাগ গতকাল এ–সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। ফলে এই অধ্যাদেশের পরিবর্তনগুলো সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়ে গেছে।
বাজারে নিত্যপণ্যের দাম ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে। তার সাথে আবার নতুন করে ভ্যাট ট্যাক্স আরোপিত হলে বাজারে বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ বেভারেজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। রোববার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সংস্থাটির একাধিক নেতা এ সন্দেহ প্রকাশ করেন।
তারা বলেন, ভ্যাট ট্যাক্স বৃদ্ধিতে বর্তমান সরকার ভাবছে রেভিনিউ বাড়বে, বাস্তবতা ভিন্ন। সত্য কথা বলতে রেভিনিউ আরও কমবে। কারণ, দাম বাড়ার কারণে মানুষ কম ক্রয় করবেন। আর তাতে সরকারের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বর্তমান সরকারের নীতি ব্যবসাবান্ধব নয় উল্লেখ করে তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে অবশ্যই ব্যবসায়ীবান্ধব হতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আইএমএফ এর সাথে আলোচনার সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দরকষাকষিতে অদক্ষতার কারণেই উচ্চ মূল্যস্ফীতির এ সময়ে ভ্যাট-ট্যাক্স বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ সরকারকে নিতে হয়েছে। “আইএমএফ এর শর্ত অনুযায়ী সরকারকে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হবে। গত কয়েক বছর সরকার এটি পারেনি এবং সেজন্যই মনে হয় এখন সরকার একটি সহজ পথ বেছে নিয়েছে,” বলছিলেন অর্থনীতিবিদ ডঃ মুস্তাফিজুর রহমান।
অবশ্য ভ্যাট বা কর বাড়ানোর সরকারি উদ্যোগের বিষয়ে গত ২রা জানুয়ারি অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভ্যাট বাড়লেও জিনিসপত্রের দামের ওপর তেমন প্রভাব পড়বে না।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
