নবকণ্ঠ ডেস্কঃ চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের শান্তিরক্ষা মিশনে পাঠানো নিয়ে ডয়চে ভেলের রিপোর্ট প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ তাদের এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয় যে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে জড়িত কোনো ব্যক্তিকে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে জাতিসংঘ আশা করছে যে তারা তাদের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নৈতিকতা এবং কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে পারবে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, “আমরা শান্তিরক্ষীদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ নৈতিক মানদণ্ড আশা করি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। শান্তিরক্ষা মিশনের সদস্যরা যদি নিজেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে জড়িত থাকে, তাহলে তারা শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে কাজ করতে পারে না।”
এই সিদ্ধান্তের পর, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক প্রতিটি সদস্যকে একটি কঠোর যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। যাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তারা এই মিশন থেকে স্থায়ীভাবে অপসারিত হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মিশনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা হারাবে।
জাতিসংঘের এই পদক্ষেপটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রশংসা অর্জন করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক কেনেথ রথ বলেন, “এই সিদ্ধান্ত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে এবং এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হবে।”
উল্লেখ্য, গত ২১ মে “মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীরা যখন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী” শিরোনামে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ডয়চে ভেলে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা নির্যাতন ও হত্যার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে পাঠিয়েছে।”
শান্তিরক্ষা মিশনগুলির জন্য এই নতুন নীতিমালা কার্যকর করার মাধ্যমে, জাতিসংঘ আশা করছে যে তারা আরও কার্যকরভাবে বিশ্বব্যাপী শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পারবে।
এই পদক্ষেপটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার পর, যেখানে শান্তিরক্ষীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল। জাতিসংঘ এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং শান্তিরক্ষীদের নৈতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

