রোমে তোসকোলানা সমাজ কল্যাণ সমিতির বর্ণিল বৈশাখী মিলনমেলা

রোমে তোসকোলানা সমাজ কল্যাণ সমিতির বর্ণিল বৈশাখী মিলনমেলা

নবকণ্ঠ ডেস্ক: ইতালির রাজধানী রোমে বাংলা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শেকড়কে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম এবং বিদেশিদের সামনে তুলে ধরতে তোসকোলানা সমাজ কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য বৈশাখী উৎসব। প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও আয়োজিত এই অনুষ্ঠান ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস।

উৎসবের শুরুতেই বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে আয়োজিত হয় বর্ণিল শোভাযাত্রা। রোমের রাজপথে ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জা, রঙিন ব্যানার ও বাংলা সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ নিয়ে অংশ নেন প্রবাসীরা। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।

অনুষ্ঠানে তোসকোলানা সমাজ কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন আঞ্চলিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া স্থানীয় ইতালীয় নাগরিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানস্থল প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে। একপর্যায়ে উৎসবস্থল যেন ছোট্ট এক টুকরো বাংলাদেশে রূপ নেয় এবং তা প্রবাসীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

সংগঠনের সভাপতি জাহিদ হাসান খোকনের সভাপতিত্বে এবং প্রধান সমন্বয়ক হাসান ইকবালের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা উল্লেখ করেন, বিদেশের মাটিতে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও নিজস্ব শেকড়ের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় বক্তারা বলেন, প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
সভায় বক্তারা বলেন, প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

অনুষ্ঠানে বর্ষবরণ ও বৈশাখী মেলা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো. শাহীন, জাহাঙ্গীর আলম, নুরুল ইসলাম মাদবর, মিয়া কাউসার, বাবু ঢালী, মোশাররফ হোসেন মামুন, তারেক হোসেন, মনির হোসেন, শাহজাহান পাটওয়ারি, শেখ খোকন, আব্দুস সাত্তার, দেলোয়ার হোসেন, সোহরাব সরকার, আলমগীর হোসেন, সুজন হাওলাদার, মো. শাহজাহান কর্নেল, উদ্দিন রাজু, রাশেদ খান, মেলার সমন্বয়ক খন্দকার নাসির উদ্দিন, নয়না আহমেদ ও সঙ্গীতা ইসলাম সানজিদাসহ আরও অনেকে।

বৈশাখী উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি ও লোকজ উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয় বাংলা সংস্কৃতির বৈচিত্র্যময় রূপ। শিশু-কিশোরদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। এছাড়াও ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উড়ানো এবং বিভিন্ন দেশীয় সংস্কৃতির প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।

অনুষ্ঠানের সার্বিক আয়োজন ও ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করে অতিথিরা আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এ ধরনের উৎসব ও আয়োজন নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

 

 

নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *