নবকণ্ঠ ডেস্ক: ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইমিগ্রেশন, ট্যাক্স ও বিভিন্ন নাগরিক সেবা বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে পরিচালিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে “ন্যাশনাল এডুকেশন সেন্টার”-এর উদ্যোগে আয়োজিত ইমিগ্রেশন ট্রেনিং সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। একই অনুষ্ঠানে “নতুন ৭৩০, বর্ষ ২০২৬” এবং “ফাত্তুরা এলেত্রোনিকা” বা ইলেকট্রনিক ইনভয়েসিং বিষয়ক বিশেষ কর্মশালায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদেরও সনদ প্রদান করা হয়েছে।
ইতালিতে অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে আইনগত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ সেবা প্রদানকারী তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে “ন্যাশনাল কাফ” ও এর শিক্ষা শাখা “ন্যাশনাল এডুকেশনাল সেন্টার”। আয়োজকরা জানান, প্রবাসজীবনে যে দেশের নাগরিক সুবিধা, ট্যাক্স ব্যবস্থা ও ইমিগ্রেশন আইন সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে নানা জটিলতা তৈরি হয়। সেই বাস্তবতা থেকেই প্রশিক্ষণভিত্তিক এই উদ্যোগের যাত্রা শুরু হয়।
গত সাত বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি ইতালিতে ইমিগ্রেশন, ট্যাক্স ফাইলিং, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন নাগরিক সেবা বিষয়ে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে আসছে। এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি ইতোমধ্যে পেশাগতভাবে দক্ষ হয়ে বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন এবং অনেকে নিজস্ব কাফ অফিসও পরিচালনা করছেন।
অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল কাফের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে দক্ষ ও পেশাদার কাফ বিশেষজ্ঞ তৈরি করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষ যেন নির্ভরযোগ্য, স্বচ্ছ ও মানসম্মত সেবা পেতে পারে, সেজন্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
ন্যাশনাল কাফের পরিচালক শেখ শান্তা মারিয়া নারী অংশগ্রহণকারীদের সাফল্যের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অনেক নারী এখন অত্যন্ত সফলভাবে নিজেদের কাফ অফিস পরিচালনা করছেন, যা ইতালিতে বাংলাদেশি নারীদের পেশাগত অগ্রগতির একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তার মতে, এটি ন্যাশনাল কাফ ও ন্যাশনাল এডুকেশনাল সেন্টারের জন্যও বড় ধরনের অর্জন।
এদিকে ন্যাশনাল কাফ প্রেনেস্তিনা অফিসের পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম নতুন গ্র্যাজুয়েট ও প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে দায়িত্বশীল ও বিশ্বস্ত সেবা প্রদানের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ক্লায়েন্টদের আস্থা অর্জনই একটি প্রতিষ্ঠানের মূল শক্তি। সৎ ও গুণগত সেবার মাধ্যমে ন্যাশনাল কাফ নেটওয়ার্ক ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন গ্রুপ অ্যাডমিন এ কে জামানও। তিনি ন্যাশনাল কাফের বিভিন্ন শাখা, পয়েন্ট, অফিস ও শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রতিবছর এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের কার্যক্রম মূল্যায়ন, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আরও সুসংগঠিত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এ সময় তিনি ন্যাশনাল কাফের নতুন কিছু পয়েন্টের পরিচিতিও তুলে ধরেন এবং প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর সফলভাবে পরিচালিত কয়েকটি কাফ অফিসের উদাহরণ উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নতুন স্টার্টআপ উদ্যোগ “ন্যাশনাল কাফ ফিলিপাইন”-এর আনুষ্ঠানিক পরিচিতি। এতে পরিচালক মিসেস কেটিকে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে বিভিন্ন অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে ন্যাশনাল কাফের সেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সাল থেকে ন্যাশনাল কাফ ইতালিতে অভিবাসী কমিউনিটির কল্যাণে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে রোমে তাদের চারটি অফিস রয়েছে। এছাড়া রোমসহ ইতালির বিভিন্ন শহরে ১৫টি শাখা এবং অসংখ্য মাল্টিসার্ভিস পয়েন্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ন্যাশনাল এডুকেশনাল সেন্টারের মাধ্যমে এ পর্যন্ত তিন শতাধিক পেশাদার কাফ অপারেটর প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছেন বলে জানানো হয়। আয়োজকদের দাবি, এসব প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীলতার সুযোগ তৈরি করছে।
অনুষ্ঠানটিকে ন্যাশনাল কাফ নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, পেশাগত শিক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং কমিউনিটি সেবার সমন্বয়ে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ইতালির অভিবাসী সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
