রোমে ‘টেস্ট দে ওয়ার্ল্ড’ উৎসব: খাবার, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির রঙে মুখর পিসাকানে স্কুল

রোমে ‘টেস্ট দে ওয়ার্ল্ড’ উৎসব: খাবার, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির রঙে মুখর পিসাকানে স্কুল

নবকণ্ঠ ডেস্ক: ইতালির রাজধানী রোম-এর বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক অধ্যুষিত এলাকা তরপিনাত্ত্বরায় আয়োজন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক উৎসব ‘টেস্ট দে ওয়ার্ল্ড’। প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় স্থানীয় Scuola Carlo Pisacane প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই বর্ণিল আয়োজন নানা দেশের মানুষের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়। দিনভর উৎসবে অংশ নেন স্থানীয় ইতালীয় নাগরিক, অভিবাসী পরিবার, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ।

উৎসব ঘিরে স্কুল প্রাঙ্গণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টল বসানো হয়। প্রায় ১০টি দেশ ও অঞ্চলের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ সংস্কৃতির জনপ্রিয় খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরেন তাদের রন্ধন ঐতিহ্য। ইতালীয় খাবারের পাশাপাশি বাংলা, আরবি, আফ্রিকান এবং বিভিন্ন এশীয় স্বাদের খাবারে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। নানা স্বাদের খাবার উপভোগ করতে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

এ আয়োজনে বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে ধুমকেতু সোশ্যাল অর্গানাইজেশন, মহিলা সংস্থা ইতালি এবং সঞ্চারী সংগীতায়নের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। সংগঠনগুলোর পরিবেশনা ও সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণ উৎসবে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। বিশেষ করে বাংলাদেশি ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরা বিভিন্ন আয়োজন দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

খাবারের আয়োজনের পাশাপাশি উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দিনব্যাপী চলে লাইভ মিউজিক, নৃত্য পরিবেশনা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী। শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে আয়োজিত পরিবেশনাগুলো দর্শকদের মাঝে বাড়তি আনন্দ ছড়িয়ে দেয় এবং উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ পুরো পরিবেশকে উৎসবমুখর করে তোলে।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো স্কুল ও স্থানীয় সমাজের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা ও সহাবস্থানের চর্চা বৃদ্ধি করা। স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন দেশের অভিবাসী পরিবার এবং শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি উৎসবটিকে একটি অসাম্প্রদায়িক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক মিলনমেলায় রূপ দেয়।

পরিবেশ সচেতনতার বিষয়টিও এবারের উৎসবে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। আয়োজনে পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের উদ্যোগ অংশগ্রহণকারীদের প্রশংসা কুড়ায়। স্থানীয়দের মতে, ‘টেস্ট দে ওয়ার্ল্ড’ শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক উৎসব নয়; এটি ভিন্ন ভাষা, জাতি ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সহনশীলতা এবং মানবিক বন্ধনের প্রতীক হিসেবেও কাজ করছে। প্রতি বছরই এই আয়োজন রোম-এর বহুসাংস্কৃতিক সমাজে সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।

 

 

 

নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *