নবকণ্ঠ ডেস্ক: ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং উৎসবের আমেজে ইতালিতে উদযাপিত হয়েছে মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। রাজধানী রোমসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে খোলা মাঠ, ঈদগাহ ও মসজিদে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রবাসজীবনের নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ধর্মীয় মর্যাদা অটুট রেখে ঈদ উদযাপন করেন হাজারো বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মুসলমানরা।
রোমে কেন্দ্রীয় ঈদ উদযাপন পরিষদের ব্যবস্থাপনায় পিয়াচ্ছা ভিত্তোরিও জাতীয় ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের পাঁচটি পৃথক জামাত। এসব জামাতে প্রায় ১০ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন। বাংলাদেশি প্রবাসীদের পাশাপাশি আরব, আফ্রিকান, এশীয় ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের উপস্থিতিতে ঈদগাহ পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।
ঈদের নামাজে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব আসিফ আনাম সিদ্দিকী। তিনি বক্তব্যে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে দেশের কল্যাণ ও অগ্রগতির জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি প্রবাসীদের দেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি, নিরাপত্তা এবং বিশ্ব মানবতার কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত, সহিংসতা ও মানবিক সংকট নিরসনের জন্যও দোয়া করা হয়। পরে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
শুধু রোমেই নয়, ইতালির মিলান, ভেনিস, নাপোলি এবং অন্যান্য শহরেও খোলা মাঠ ও মসজিদে শতাধিক স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি শহরেই বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। ফলে ইতালিজুড়ে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে প্রবাসী মুসলিম সমাজে।
ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসীদের অনেকেই সামাজিক সচেতনতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। দেশে সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ও নারী নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে এসব অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা। মানবিক মূল্যবোধ, পারিবারিক শিক্ষা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি নিরাপদ সমাজ গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রবাসীরা।
দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে অবস্থান করলেও ঈদের দিন পরিবার-পরিজনের অভাব গভীরভাবে অনুভব করেছেন অনেক প্রবাসী। স্বজনদের কাছ থেকে দূরে থাকার কষ্ট থাকলেও একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে সেই শূন্যতা কিছুটা হলেও পূরণ করার চেষ্টা করেছেন তারা। বন্ধু, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে প্রবাসে ঈদের আনন্দকে স্মরণীয় করে তোলেন অনেকে।
তবে ইতালিতে ঈদের দিনটি কর্মদিবস হওয়ায় ভিন্ন বাস্তবতাও দেখা গেছে। অনেক প্রবাসীকে নামাজ শেষে দ্রুত কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হতে হয়েছে। আবার কেউ কেউ কোরবানির পশু সংগ্রহ, জবাই ও মাংস বণ্টনের বিভিন্ন প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন।
ঈদুল আজহার মূল শিক্ষা আত্মত্যাগ, সংযম ও মানবতার চর্চা—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অনেক প্রবাসী সকল ধরনের হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ ভুলে পারস্পরিক সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান। তারা বলেন, কোরবানির প্রকৃত তাৎপর্য হলো নিজের ভেতরের অহংকার, লোভ ও নেতিবাচক প্রবৃত্তিকে পরিত্যাগ করা এবং মানবিক গুণাবলিকে বিকশিত করা।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভাষ্য, বিদেশের মাটিতে নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও ধর্মীয় মর্যাদা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ঈদ উদযাপন করতে পারা তাদের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন প্রবাসী সমাজের ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও শক্তিশালী করবে।
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
