নবকণ্ঠ ডেস্ক: ইউরোপের মাটিতে প্রথমবারের মতো কোনো জাতীয় দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সেই ঐতিহাসিক লড়াইকে সামনে রেখে ইতালিতে পৌঁছেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। আগামী ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা টায়ার-১ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের প্রস্তুতি।
সোমবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ইতালির রাজধানী রোমের লিওনার্দো দা ভিঞ্চি-ফিউমিচিনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বাংলাদেশ দল। ঢাকা থেকে দীর্ঘ বিমানযাত্রা শেষে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা ইতালিতে পৌঁছালেও তাদের মধ্যে ক্লান্তির ছাপ খুব একটা দেখা যায়নি। বরং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে সামনে রেখে সবাইকে বেশ উজ্জীবিত ও আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে।
রোম বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশ দলকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায় ইতালিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের প্রথম সচিব (দূতালয় প্রধান) মারজুক ইসলাম রাসেল ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে দলকে বরণ করে নেন। এ সময় দূতাবাসের পক্ষ থেকে ম্যাচ উপলক্ষে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও শুভকামনাও জানানো হয়।

দীর্ঘ ভ্রমণের পর অধিকাংশ দল সাধারণত বিশ্রামকে অগ্রাধিকার দিলেও বাংলাদেশ শিবির এবার সেই পথে হাঁটছে না। সময়কে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে ইতালিতে পৌঁছেই অনুশীলনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দল। টিম ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় আবহাওয়া ও পরিবেশের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে প্রথম দিনেই খেলোয়াড়রা মাঠে নামবেন। শুরুতে হালকা রিকভারি সেশন, স্ট্রেচিং এবং ফিটনেসভিত্তিক অনুশীলনের মাধ্যমে প্রস্তুতি কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য ম্যাচটির গুরুত্ব বহুমাত্রিক। কারণ এটি শুধু ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচই নয়, একই সঙ্গে ইউরোপের মাটিতে জাতীয় দলের প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল লড়াই। ফলে ম্যাচটিকে ঘিরে ফুটবলাঙ্গনে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ভৌগোলিকভাবে ইতালির চারদিক দিয়ে বেষ্টিত ক্ষুদ্র রাষ্ট্র সান মারিনোতেই অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। রোমে পৌঁছানোর পর সেখান থেকেই সড়কপথে ম্যাচ ভেন্যুর উদ্দেশে যাত্রা করে বাংলাদেশ দল। ইউরোপীয় পরিবেশে নিজেদের প্রস্তুত করে সেরা পারফরম্যান্স তুলে ধরাই এখন দলের মূল লক্ষ্য।
বর্তমান ফিফা র্যাংকিং অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১তম, অন্যদিকে সান মারিনো রয়েছে ২১১ নম্বরে। কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকলেও প্রতিপক্ষ নিজেদের পরিচিত পরিবেশ ও কন্ডিশনের সুবিধা পাবে। তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি ম্যাচের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে দেশ ছাড়ার আগে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ জয় নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন এবং সমর্থকদের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনার প্রত্যয় জানিয়েছেন।
এদিকে প্রবাসী ফুটবলার হামজা চৌধুরী, সামিত ও জায়ানের ২ জুন সরাসরি দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। তাদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে দল আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বহুল প্রতীক্ষিত এই আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচকে ঘিরে ইতালিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের পাশাপাশি দেশের ফুটবল সমর্থকদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
