নবকণ্ঠ ডেস্কঃ রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তপ্ত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে দৈনিক প্রথম আলো ও সম্পাদক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে চরিত্র হনন ও রাজনৈতিকভাবে ‘মাইনাস’ করার অভিযোগ। ২০০৭-২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে শুরু হওয়া এ অভিযোগের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেকের খালাসের পর পত্রিকাটির অতীত প্রতিবেদনগুলো পুনরায় আলোচনায় এসেছে। বিএনপি নেতারা দাবি করছেন, প্রথম আলো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করতে গিয়ে তারেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ, কলাম ও কার্টুনের মাধ্যমে একটি নীলনকশা বাস্তবায়নে তৎপর।
২০০৭ সালের ৭ জুন মতিউর রহমানের লেখা “তারেকের দুর্নীতির বিচার হতে হবে” শীর্ষক মন্তব্য প্রতিবেদনে তারেক ও গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের অর্থপাচার ও চাঁদাবাজির দাবি করা হয়। পরবর্তীতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, জঙ্গি সংযোগ, এতিমখানার টাকা আত্মসাতের মতো ঘটনায় তারেককে জড়ানোর অভিযোগ উঠে পত্রিকাটির বিরুদ্ধে। গত কয়েক মাসে গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেকের খালাসের পর প্রথম আলোর এসব প্রতিবেদনকে “মনগড়া” ও “ষড়যন্ত্রমূলক” আখ্যা দিয়েছে বিএনপি। দলটির নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, “প্রথম আলো কি এখন মানহানির দায় নেবে?”
প্রথম আলোর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, তারা তারেকের ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোকেও কার্টুন ও প্রতিবেদনের মাধ্যমে হেয়প্রতিপন্ন করেছিল। কোকোর মাথাকে “টাকার ব্যাগ” হিসেবে এঁকে দুর্নীতির প্রতীক বানানো হয়। সম্প্রতি ইসলামপন্থী একটি গোষ্ঠী পত্রিকা অফিসের সামনে গরু জবাই করে প্রতিবাদ জানায় এবং প্রথম আলোকে “ইসলামবিদ্বেষী” বলে অভিযুক্ত করে।
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রথম আলো সরকারি দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে “মাইনাস টু” ফর্মুলা পুনরুজ্জীবিত করতে চাইছে। যদিও পত্রিকাটির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে এই বিতর্ক বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নৈতিকতার প্রশ্নটি সামনে এনেছে। আদালতের রায় ও জনমতই শেষ কথা বললেও, রাজনৈতিক পোলারাইজেশন এর মধ্যেই এই সংঘাতের মীমাংসা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

