সিলেট ৫ আসনে প্রার্থী কারা?

সিলেট ৫ আসনে প্রার্থী কারা?

আবু তাহির- সিলেট ৫ আসন। কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে আগামী নির্বাচনে কে হতে যাচ্ছেন সংসদ সদস্য এমন প্রশ্ন জনমনে। গত ১৫ বছরে এ আসনে নানা নাটকীয়তা ছিলো লক্ষনীয়। বিশেষকরে একদলীয় শাসনব্যাবস্থায় উল্লেখযোগ্য কোন নির্বাচন না হওয়াতে যেমন খুশি তেমন সাজো টাইপের সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন শেষ দুইবার।

২০১৪ সালে বিয়ানীবাজার থেকে এসে সাংসদ হয়েছিলেন লন্ডন প্রবাসী সেলিম উদ্দীন। তিনি জাতীয় পার্টি সমর্থিত ছিলেন। বিয়ানীবাজার থেকে এসে কানাইঘাট জকিগঞ্জ এর এমপি, কানাইঘাট জকিগঞ্জ বাসীর জন্য মূলত একটি সুক্ষ অপমান ছিল। এ আসনের মানুষ এমন নির্বাচন কোনদিন ভুলতে পারবেনা । ৭ জানুয়ারী ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থীকে ব্যাতিরেকে বিপুল অর্থের বিনিময়ে শেখ হাসিনা এ আসন দিয়ে দেন হুশাম উদ্দীন চৌধুরী ফুলতুলিকে। সত্যিকার অর্থেই এ আসনের মানুষ গত বিশবছরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন কি সেটি ভুলে গেছে।

১৯৭১ সালের পর শুধুমাত্র একবারই এ আসনের মানুষ জনপ্রতিনিধির স্বাদ গ্রহন করেছিলো। ২০০১ সালে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মাওলানা ফরিদ উদ্দীন চৌধুরী বিজয়ী হন এ আসনে। ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর আমলে মুলত কানাইঘাট জকিগঞ্জের কথা সংসদে শোনা গিয়েছে। এবং এ আমলেই বাস্তবিক উন্নয়ন হয়েছিল। আওয়ামী লীগ এর দুইবার সংসদ সদস্য ছিলেন হাফিজ আহমদ মজুমদার। কানাইঘাট জকিগঞ্জে হাফিজ আহমদ মজুমদার এর কোন উন্নয়নই পরিলক্ষিত নয়। সংসদ সদস্য হতে না পারলেও কানাইঘাট জকিগঞ্জের উন্নয়নে গুরত্বপূর্ন ভূমিকা রেখেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারিছ চৌধুরী। মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা আগামী নির্বাচনে কে হবে এ আসনের সাংসদ তা তারা নিজেরাই ঠিক করবেন।

সঠিক দিনক্ষন ঠিক না হলেও ধারনা করা হচ্ছে এ বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী বছরের মাঝামাঝি হতে পারে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। ইতিমধ্যে জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষনা করেছে। হাফেজ মাওলানা আনোয়ার হোসেইন খানই জামায়াতের প্রার্থী। তিনি জামায়াতে ইসলামি সিলেট জেলা উত্তরের দীর্ঘদিন আমীর ছিলেন। আওয়ামী লীগ পালিয়ে যাওয়ার পর মুলত বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনে বড় দুই দল বিএনপি ও জামায়াত। নির্বাচনমুখি বিএনপি সারাদেশে কাজ শুরু করলেও প্রার্থী নিয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্তে যেতে পারেনি। দলীয় প্রতিকে নির্বাচন করতে এ আসনে ইতিমধ্যে চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপি’র কয়েকজন প্রার্থী।

অপরদিকে আওয়ামী লীগ এর সরাসরি প্রার্থী না থাকলেও ধারনা করা হচ্ছে আল ইসলাহ (ফুলতুলি) অথবা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এর একাংশের মধ্যেই আওয়ামী লীগ তাদের সুখ-দুঃখের পথ খুজে পেতে পারে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এর একাংশ বরাবরই আওয়ামী লীগ ঘেষা ছিলো কানাইঘাট উপজেলায়।

অপর অংশ জাতীয় ভাবে বিএনপি অথবা জামায়াত এর জোট এর সাথে নির্বাচনে যেতে পারে। একটি বিষয় মুটামুটি পরিষ্কার এবারের নির্বাচনে পেশীশক্তি ও অর্থের ঝনঝনানি কম হবে বলেই ধারনা করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা।

বিএনপি’র কোন প্রার্থী এ আসনে এগিয়ে আছেন- এমন প্রশ্নের হিসেব করা জটিল। কানাইঘাটের সুর্যসন্তান হিসাবে পরিচিত বাংলাদেশের সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারিছ চৌধুরীর চাচাতো ভাই সিলেট জেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা আশিক চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপি’র প্রথম সহ-সভাপতি মামুন রশীদ (চাকসু) , সিলেট জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা সিদ্দিকূর রহমান পাপলু এ আসনে দলীয় টিকেট পাওয়ার প্রত্যাশায় আছেন।

যদিও বিগতদিনে দলের প্রার্থী ছিলেন মামুন রশীদ ওরফে চাকসু মামুন। তবে ব্যতিক্রমী এ নির্বাচনে প্র‍য়াত নেতা হারিছ চৌধুরী’র মেয়ে সামিরা চৌধুরীও পিছিয়ে নেই। জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি শরীফ লস্করও দলীয় নমিনেশন নিতে যোগাযোগ রাখছেন হাই কমান্ডের সাথে।

এছাড়াও এ আসনে বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের দারা গঠিত দল থেকে কে আসতে পারে তা এখনো জানা যায়নি। তবে জল্পনা কল্পনা শেষে বিএনপি ও জামায়েতের প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্পষ্ট।

বাংলাদেশে দাঁড়িপাল্লার ভোট ব্যাংক হিসাবে পরিচিত মূলত এ আসনটি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ২৮১২০ ভোট পেয়েছিলেন। সে নির্বাচনে মাত্র ১৩৬৩ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ এর প্রার্থীর কাছে হারেন তিনি । ২০০১ সালে ৮ম সংসদ নির্বাচনে ফরিদ চৌধুরী ২৪৮৬৫ ভোট বেশি পেয়ে সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হন। যদিও ২০০৮ সালের নির্বাচনে ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ৩১৬২৯ ভোটের র ব্যবধানে ফের হাফিজ মজুমদারের কাছে পরাজিত হন। ২০০৮ সালের পর জামায়াত এ আসনে আর কোন প্রার্থী দেয়নি।

২০২৩ সাল পর্যন্ত এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৩২৪৩১২ জন যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৬৩১৯১ জন। নতুন ভোটার হালনাগাদে সে সংখ্যা বহুগুনে বেড়ে যেতে পারে।

এবারের নির্বাচনে জামায়াত তাদের আসন ফিরে পেতে মরিয়া এবং প্রথমবারের মত আসন দখল নিতে পিছপা হবে না বিএনপি।

 

 

নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *