আবু তাহির: সংসদীয় আসন ২৩৪। প্রায় চার লক্ষ ভোটারের আসন এটি। সিলেটের মধ্যে অতি পরিচিত দুই উপজেলা বিয়ানীবাজার গোলাপগঞ্জ নিয়ে গঠিত এ আসনে আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীর মধ্যে জমে উঠতে পারে তুমুল প্রতিযোগিতা।
মূলত এ আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ৪ বার নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী শরফুদ্দিন খসরু সিপিবি প্রার্থী নুরুল ইসলাম নাহিদ কে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। অবশ্য এর পরের নির্বাচনে নুরুল ইসলাম নাহিদ সিপিবি ছেড়ে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচন করে জাতীয় পার্টির মোজাম্মেল আলীকে হারিয়ে সংসদ সদস্য হিসাবে শপথ নেন।
৮ম সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মত সফলতা পায় বিএনপি। যদিও এ নির্বাচনে মকবুল হোসেন লিচু মিয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নাহিদ কে ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারান।
২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে এ আসনে প্রার্থী দেয় জামায়াত। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে জামায়াত এর সিলেট জেলা আমীর হাবিবুর রহমান সেবার প্রার্থী হয়েছিলেন।
২০০৮ সালের পর আওয়ামী লীগ এর শাসনামলে উল্লেখযোগ্য কোন নির্বাচন না হওয়াতে এ আসনের ভোটাররা জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন নি। আওয়ামী লীগ পালিয়ে যাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই এ আসনে প্রতিযোগিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে একসময়ের মিত্র বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে।
নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক না হলেও ইতোমধ্যে এ আসনে জামায়াত তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। ইসলামি ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সেলিম উদ্দীন-ই জামায়াতের প্রার্থী। বর্তমানে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সাবেক এ ছাত্রনেতা পরিষ্কার ইমেজের কারণে গোলাপগঞ্জ বিয়ানীবাজারের জনমানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয়।
অপরদিকে এ আসনে বিএনপি’র সমর্থনের আশায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি’র বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ। সিলেট-৬ আসনে ২০১৮ সালের নির্বাচনে ফয়সল আহমদ চৌধুরী বিএনপির সমর্থনে প্রতিদ্বন্ধিতা করলেও এবার সেখানে আবুল কাহের চৌধুরী শামীম ও এমরান আহমদ চৌধুরী ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন। তারেক রহমানের উপদেষ্টা টাওয়ার হ্যামলেটসের সাবেক ডেপুটি মেয়র ওহিদ আহমদও রয়েছেন। তবে দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে মাঠে তৎপর নেতাদের বাইরেও কাউকে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। আর এমনটি ঘটলে সেখানে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন ফয়সাল চৌধুরী। এ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে বিপুল ভোট হেরে যান। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাত পাখা নিয়ে নির্বাচন করেন আজমল হোসেন। তবে যেহেতু এবারের নির্বাচনে হাত পাখা জাতীয় ভাবে বিএনপি বা জামায়াতের সাথে ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনে যাবে সেহেতু তাদের এ আসনে প্রার্থী দেয়ার সম্ভাবনা একেবারেই কম। আওয়ামীলীগ এর মিত্র বিকল্পধারা ও জাতীয়পার্টির অস্তিত্ব এ মুহূর্তে বাংলাদেশে নেই বললে চলে।
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

