মামলায় যোগ দিচ্ছে স্পেন, দেখা নেই কোনো মুসলিম দেশের

মামলায় যোগ দিচ্ছে স্পেন, দেখা নেই কোনো মুসলিম দেশের

নবকণ্ঠ ডেস্কঃ প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) স্পেন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যার মামলায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আরও দুটি দেশ আয়ারল্যান্ড ও নরওয়ের সঙ্গে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সপ্তাহখানেক পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানালো স্পেন। এখন কলম্বিয়া, মিশর ও তুরস্কসহ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে পেদ্রো সানচেজের দেশটিও আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলায় যোগদানের অনুরোধ জানাবে। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যোগ দিয়েছিল উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকো ও চিলি।

সংবাদ সম্মেলনে স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইসিজে গাজার রাফাহ শহরে হামলা চালানো বন্ধ করার রায় দিলেও, ইসরায়েলি বাহিনী তা অগ্রাহ্য করে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এ কারণেই আমরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ওই মামলায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি আর বলেন, আমরা ইসরায়েল-হামাস সংঘাতের আঞ্চলিক সম্প্রসারণকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। স্পেন শুধু গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরে আনতে নয়, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেও এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো- যুদ্ধের অবসান ঘটানো ও দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান কার্যকর করার পথে আগানো।

এই মামলাটি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা দায়ের করেছিল, যেখানে তারা অভিযোগ করেছে যে, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক কার্যকলাপ গণহত্যার পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার ফলে ২৩,০০০ এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এই মামলা আন্তর্জাতিক আদালতে ১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে, যা দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইসরায়েল উভয়েই স্বাক্ষর করেছে।

স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস জানিয়েছেন যে, স্পেনের এই যোগদান আন্তর্জাতিক আইনি প্রচেষ্টাকে সমর্থন এবং গাজা ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে স্পেন তুরস্ক, মিশর, এবং কলম্বিয়ার মতো দেশগুলোর সাথে সংযুক্ত হয়েছে, যারা ইতিমধ্যে এই মামলায় যোগ দিয়েছে বা সমর্থন করেছে।

স্পেনের এই সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের সাথে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যা এই অভিযোগগুলি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে এবং মামলাটিকে সমর্থনকারী দেশগুলোর সমালোচনা করেছে। এই মামলাটি আন্তর্জাতিক মনোযোগ ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যা ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাতের গভীর ও চলমান বিরোধগুলিকে প্রতিফলিত করছে।

-১৯১

 

 

নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.