নবকণ্ঠ ডেস্কঃ একদিনও প্রচারের জন্য বের হননি বা হতে পারেননি। জেলে বসেই লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হলেন অমৃতপাল সিং, একজন খালিস্তানি নেতা এবং ‘ওয়ারিস পঞ্জাব দে’ সংগঠনের প্রধান, বর্তমানে ডিব্রুগড়।অসমের জেলে বন্দি অবস্থায় পাঞ্জাবের খাদুর সাহিব লোকসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। ২০২৩ সালের এপ্রিলে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং এরপর থেকেই তিনি কারাগারে আছেন।
মঙ্গলবার (৪ জুন) নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অমৃতপাল পেয়েছেন ৪ লাখ ৪ হাজার ৩০ ভোট। ওই আসনে দ্বিতীয় হয়েছেন কংগ্রেসের কুলবীর সিংহ। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৭ হাজার ৩১০ ভোট। তৃতীয় হয়েছেন কেজরিওয়ালের দল আম আদমি পার্টির (এএপি) লালজিৎ সিংহ ভুল্লার। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৩৬ ভোট।
অমৃতপাল সিং-এর নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে তার আইনজীবী আদালতে একটি আবেদন করেছিলেন, যাতে তিনি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন। কারাগারে থাকা সত্ত্বেও তার মনোনয়নপত্র গৃহীত হয় এবং তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়াই করেন।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, নির্বাচনে জিতলেও তিনি কি আদৌ শপথ নিতে পারবেন? জেলে বসে কি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করা সম্ভব? কেননা শপথগ্রহণের জন্য অমৃতপালকে আগে জেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি চেয়ে আবেদন করতে হবে। কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে সংসদে গিয়ে শপথ নিতে পারবেন তিনি। তবে তার পর আবার জেলে ফিরতে হবে খলিস্তানপন্থি নেতাকে।শপথ নেওয়ার পর অমৃতপালকে লোকসভার স্পিকারকে লিখিতভাবে জানাতে হবে যে, তিনি সংসদে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। অনুপস্থিত হিসেবে তিনি সংসদ সদস্য থাকতে পারেন কি না, ভোটাভুটির মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।তবে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরও অমৃতপাল যদি দোষী সাব্যস্ত হন ও তাকে দুই বছর বা তার বেশি সময় জেলে থাকতে হয়, তাহলে সংসদ সদস্য পদ হারাবেন তিনি।
অমৃতপাল সিংয়ের নির্বাচনে জয় তাঁর খালিস্তানি মতাদর্শের প্রচার ও সমর্থন বৃদ্ধি করতে পারে, যা পাঞ্জাবের রাজনৈতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া আরও একজন খালিস্তানি নেতা সন্দীপ সিংও জেলে থেকেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই ঘটনাগুলো ভারতের রাজনীতিতে এবং খালিস্তানি আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা ভবিষ্যতে আরও বিশ্লেষণ এবং পর্যবেক্ষণের দাবি রাখে।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
