নবকণ্ঠ ডেস্কঃ ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের কাছে ওমরাহ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সারা বিশ্বের লক্ষ-কোটি মুসলিম এর সুপ্ত বাসনা থাকে জীবনে একবার হলেও আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করা।
বাংলাদেশে বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সীগুলো ওমরাহ পালনের জন্য যাবতীয় প্যাকেজ অফার করে। কিন্তু এসব প্যাকেজের মূল্য তুলনামূলক বেশি। তাছাড়া ওমরাহ পালনে সহায়তার নামে অনেক ট্রাভেল ও হজ্জ্ব এজেন্সী মুসল্লীদের সাথে প্রতারণা করে থাকে এমন গুরুতর অভিযোগও অহরহ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ওমরা করার জন্য যাবতীয় কার্য়ক্রম কোন এজেন্সির সহায়তা ছাড়া নিজে নিজেই করতে পারেন। এতে ওমরার খরচ যথেষ্ট সাশ্রয়ও করতে পারবেন।
ওমরাহ পালনের জন্য অবশ্যই আপনাকে সৌদি আরবের ওমরাহ ভিসা নিতে হবে। এই কাজটি এখন থেকে অনলাইনেই করে নিতে পারবেন। আগের মত ঝক্কি-ঝামেলা নেই। গুগল প্লে-স্টোর থেকে KSA Visa Bio অ্যাপস এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য, ডুকুমেন্টস এবং ফেস ও ফিঙ্গার প্রিন্ট শনাক্ত করণের মাধ্যমে ওমরা ভিসার জন্য ঘরে বসেই আবেদন করতে পারবেন। এর জন্য দূতাবাস কিংবা কোন এজেন্সিতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এজেন্সীর মাধ্যমে করলে এজেন্সীগুলোর ভিসা প্রসেসিং ফি সহ ভিসা বাবদ এজেন্সীভেদে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হতে পারে।
সঠিক তথ্য দেওয়া হলে আবেদনের ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ভিসা ইস্যু হয়ে যাবে।
ভিসা পেয়ে গেলে এবার আপনার দরকার হবে এয়ার টিকেট। বাংলাদেশ থেকে দেশীয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং সৌদির সৌদি এয়ারলাইন্স সরাসরি বিমান পরিচালনা করে। তবে এগুলো সরাসরি বিমান হওয়ায় বিমান ভাড়া অপেক্ষাকৃত বেশি। সরাসরি বিমানে যাওয়ার বদলে বাংলাদেশ থেকে এমিরেটস এয়ারলাইনস, কাতার এয়ারলাইন্স, কুয়েট এয়ারওয়েজ, এতিহাদ এবং গালফ এয়ারওয়েজের কানেক্টিং ফ্লাইটে সাশ্রয়ী মূল্যে সৌদি আরব যেতে পারেন।
মক্কা ও মদিনায় ওমরাহ পালনকারীদের জন্য থাকার সুব্যবস্থা আছে। ট্র্যাভেল এজেন্সী গুলোর মাধ্যমে হোটেল ও লোকাল ট্রান্সপোর্ট বুক করে যেতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখবেন এজেন্সিটি সৌদি সরকার অনুমোদিত কি না? হোটেল বুকিং এর ফি পরিশোধ করার আগে অবশ্যয় খেয়াল রাখবেন সহজ রি-ফান্ড এবল পলিসি আছে কি না? যাতে কেন কারণে যাওয়া না হলে সামান্য ক্যানসেলন ফি এর মাধ্যমে পরিশোধকৃত অর্থ ফেরত পেতে পারেন। তবে আপনি চাইলে সৌদি আরবে গিয়ে একটু ঘুরে ফিরে রুম খুঁজে নিতে পারেন।
মক্কা ও মদিনা দুই জায়গাতেই খাওয়া খরচ অনেকটা সাশ্রয়ী। মক্কায় হারাম শরীফের কাছে খাবারদাবারের মূল্য একটু বেশি হলেও একটু দূরের এলাকাগুলোতে খাবারের দাম অনেকটাই কম। মক্কার হারাম শহর থেকে হাটা পথে প্রায় ১০ মিনিট দূরত্বে মিসফালা নামক একটি এলাকা আছে। এখানেই মক্কায় বাংলাদেশী হজ্ব কাউন্সিলের কার্যালয়। এই এলাকার রেস্টুরেন্টগুলোতেও খাবারের দাম অনেক কম। এখানে বাংলাদেশী ও পাকিস্তানি মালিকানাধীন রেস্টুরেন্ট আছে।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

