নবকণ্ঠ ডেস্কঃ ফ্রান্সের প্যারিসে ইউনেস্কো সদর দপ্তরে বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের রজতজয়ন্তীর দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ২৫ বছর পূর্তিতে এ উদযাপন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
প্রথম দিনে ভাষাবিদ, গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মাতৃভাষা সংরক্ষণ, বহুভাষিক শিক্ষার প্রসার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে এর ভূমিকা নিয়ে গভীর আলোচনা করা হয়। এছাড়া, ‘শান্তির জন্য বহুভাষিক দৃষ্টিভঙ্গি’, ‘প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বহুভাষিক শিক্ষা’সহ তিনটি মূল বিষয়ে কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
২১ ফেব্রুয়ারি মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে তার প্রেরিত ভিডিওবার্তা ইউনেস্কোর ওয়েবস্ট্রিমে বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টায় প্রচারিত হয়। আলোচনায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন ও বৈশ্বিক সমৃদ্ধিতে বহুভাষিক শিক্ষার কৌশলগত ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
ইউনেস্কো প্রথমবারের মতো এই আয়োজনে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষার পাশাপাশি সংকেত ভাষায় সম্প্রচারের ব্যবস্থা করেছে, যা বাংলাদেশের প্রস্তাবনার অন্যতম সুফল। এছাড়া, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস, প্যারিসকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক’ প্রদানের ঘোষণা করা হয়েছে।
দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মাতৃভাষার সংগ্রামের ইতিহাস সংগীত, নৃত্য ও পরিবেশনায় ফুটিয়ে তুলবেন। ইউনেস্কোর ওয়েবস্ট্রিমে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পর্বটি স্থানীয় সময় রাত ১১:১৫টায় সম্প্রচারিত হবে। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে পররাষ্ট্র ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এই ঐতিহাসিক আয়োজন বাস্তবায়নে সমন্বিত ভূমিকা রেখেছে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এবারের আয়োজনে মূলত তিনটি বিষয়ে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এগুলো হলো— শান্তির জন্য বহুভাষিক দৃষ্টিভঙ্গি, জরুরি পরিস্থিতিতে বহুভাষিক শিক্ষা, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে বহুভাষিক শিক্ষা।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
