নবকণ্ঠ ডেস্কঃ কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন। তারপর ধীরে ধীরে সরকার পতনের আন্দোলন বেগবান হয়। ছয় প্রধান সমন্বয়ককে গুম করা ও ডিবি অফিসে আটকে রাখা হয়। ১৭ জুলাই আবু সাঈদের মত্যুর পর আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। সে সময় মুক্ত থাকা অন্যান্য সমন্বয়কদের সমন্বয়ে তৈরি হয় ৯ দফা। ৫ই আগষ্ট এর পর মিডিয়াতে ৯ দফা এর মাস্টারমাইন্ড হিসেবে উঠে আসে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের এর নাম। সেই আব্দুল কাদেরই এবার খোলাসা করলেন ঘটনার পেছনের ঘটনা।
রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ফেসবুক একাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, সে সময় অন্য সমন্বয়করা ঢাবি শিবিরের সেক্রেটারির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তৈরি করেন ৯ দফা। তিনি জানান, ইন্টারনেট বন্ধ থাকা কালীন তিনি যকন যাত্রাবাড়ি অংশে আন্দোলত ছিলেন তখন মুঠোফোনের মাধ্যমে ঢাবি শিবির সেক্রেটারির পরিচয়ে ফরহাদ নামের এক ব্যাক্তির আলোচনা হয। পরবর্তীতে আরে কয়েকবার আলোচনার প্রক্ষিতে চলমান পরিস্তিতিতে আরো কিছু দাবির মাধ্যমে আন্দোলন চলিয়ে যেতে তারা একমত হোন। তিনি জানান, আন্দোলন চালিয়ে নেওয়ার মতো মাঠে কোনো সিনিয়র নেই। আসিফ-নাহিদ ভাইকে গুম করে রেখেছে। আমি সাত-পাঁচ না ভেবে রিস্ক নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। ওই দিন জুমার নামাজের পরপরই যাত্রাবাড়ীতে কয়েকজন শহীদ হয়, সবগুলা আমার চোখের সামনেই ঘটেছে। মানুষকে পাখির মতো গুলি করে মেরে ফেলছে, এটা আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলাম না। তাছাড়া দীর্ঘদিন জেল-জুলুম, হামলা-মামলার শিকার হয়ে হাসিনার এমন অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলে গিয়েছি; মাথা নত করিনি।
ঢাবি শিবির সেক্রেটারি সাথে আলোচনা করে সমন্বিতভাবে তৈরি হয় ৯ দফা। ওই ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও জানান, তিনি (শিবির সেক্রেটারি) একে একে কিছু দাবি বললেন। যেগুলা খুব কমন দাবিদাওয়া- যেমন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ, ছাত্র হত্যার সঙ্গে জড়িত পুলিশ প্রশাসনকে বরখাস্ত, সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনা, ভিসির পদত্যাগ। যেগুলা ৬ জন শহীদ হওয়ার পরে মঙ্গলবার রাতের বৈঠকের আলোচনাতেই আমরা ভেবেছিলাম। এছাড়া মানুষজনও সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু দাবিদাওয়া জানিয়ে আসছিল। শেষের দিকে গিয়ে শিবিরের সেক্রেটারি একটা দাবি এড করলেন, “ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে” এটা আমি মানিনি। দীর্ঘক্ষণ আলাপ আলোচনা হলো। পরে আমি বললাম, ঢালাওভাবে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা যাবে না, এক্ষেত্রে লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের কথা বলতে পারেন। পরে সেটাই ঠিক হলো, লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।
এরপর এই ৯ দফা দাবি ছাত্র শিবিরের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার ও প্রসার লাভ করতে সহায়তা করে। ইন্টারনেট বন্ধ থাকাতে ৯ দফা দাবির কপি স্ব-শরীরে মিডিয়া হাউজ গুলোতে পৌছে দিতে সাহয্য ছাত্র শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের জনশক্তি। এসময় জনাব আব্দুল কাদের ফোন করের মাধ্যমে মিডিয়াতে দাবিগুলো তার পক্ষ থেকে যাচ্ছে সেটা নিশ্চিত করতে ব্যাস্ত সময় পার করেন। তিনি জানান এসময় তিনি বাসা থেকে চাচর-পাঁচ কিমি দূরে হেটে গিয়ে সাংবাদিকদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছিলেন এবং মুঠোফোন বন্ধ করে বাসায় ফিরে আসছিলেন। এসময় গ্রফতার আতঙ্কে তাকে মসজিদে, বাসার ছাদে না ঘুমিয় কাটাতে হয়েছে।
পোস্টের শেষাংশে আব্দুল কাদের বলেন, এই-তো, ঐতিহাসিক ৯ দফা, আমাদের ৯ দফা। ফ্যাসিস্ট হাসিনা থেকে মুক্তি লাভের সনদ!
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
