নবকণ্ঠ ডেস্কঃ ৫ই আগস্ট হাসিনার পতনের পর আলোচিত একটি নাম গণভবন। ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত গণভবন সেদিন সত্যিকার অর্থে জনগণের ভবন হয়ে উঠেছিল। হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর সেদিন দুপুর হতে রাত পর্যন্ত গণভবন ছিল জনগণের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র। এ ঘটানার পর অনেকেরই কৌতূহল লক্ষ্য করা যাচ্ছে এই গণভবন ঘিরে।
গণভবন নির্মিত হয ১৯৭৪ সালে। এটি তখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রি শেখ মুজিবের বৈকালিক অফিস হিসবে ব্যাবহৃত হয়ে আসছিল। তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে হাসিনা ছাড়া এটি কোন প্রধানমন্ত্রী এটিতে বাসভবন হিসেবে ব্যাবহার করেন নি। আগষ্ট বিপ্লবের মাধ্যমে শেখ মুজিবের পতনের পর দীর্ঘদিন ভবনটি পরিত্যাক্ত হযে পড়ে ছিল। জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় থাকার সময় ১৯৮৫ সালে গণভবন সংস্কার করে সেটিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘করতোয়া’ নামকরণ করা হয়। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধানদের জন্য এই অতিথি ভবন ব্যবহার করা হতো। এই ভবনে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী ঢাকা সফরের সময় অবস্থান করেছিলেন বলে জানা যায়। এরপর অতিথি ভবন ‘করতোয়া’ রাষ্ট্রীয় কাজে কিছু ব্যবহার হয়েছিল।
১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হয়ে এলেও তিনি এখানে থাকেন নি। তিনি বাস করতেন তার বরাদ্দকৃত ক্যান্টনমেন্টের বাসায়। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে পুনঃ আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এলে শেখ হাসিনা এটিকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে ব্যাবহার করা শুরু করেন ও পুনরায় গণভবন নামকরণ করেন।
২০০১ সালে ক্ষমতা ছাড়ার প্রক্কালে শেখ হাসিনা এই গণভবন ঘিরে এক নেক্কার জনক ঘটনা ঘটান। তিনি তার চাটুকার সরকারি আমলাদের দিয়ে এই গণভবন বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের জন্য এক টাকা প্রতিকি মূল্যে হস্তান্তর করার প্রস্তাবনা দাঁড় করান। এবং তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে নির্লজ্জ ভাবে এক টাকার মাধ্যমে গনভবনের কিনে নেন। পরবর্তীতে তার প্রধানমন্ত্রিত্বের মেয়াদ পূর্ণ করে ক্ষমতা ছাড়লেও গণভবন ছাড়তে অস্বকৃতি জানান। সেটি নিয়ে তখন বেশ বিতর্ক তৈরি হয়। সবচেয়ে বেশি শোরগোল তৈরি হয় বিএনপির তরফ থেকে। এই বরাদ্দ দেবার কিছু দিন পরে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়কালে শেখ হাসিনার গণভবনে থাকা নিয়ে আপত্তি তোলেন।

শেষ পর্যন্ত গণভবন নিজের কাছে কুক্ষিগত করে রাখতে ব্যার্থ হয় হাসিনা। ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে ও তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি লতিফুর রহমান এর চাপে,তাকে গণভবন ছেড়ে দিতে বাধ্য করা হয়। শেষ অবধি গণভবন ছাড়লেও কোন সরকারি স্থাপনা এভাবে ব্যাক্তিগতভাবে কুক্ষিগত করা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল ও কৌতুকদীপ্ত দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
