নবকণ্ঠ ডেস্কঃ মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারত সরকারের মৈত্রী চুক্তি করেন। তন্মধ্যে ভারতের সাথে যে সাত দফা চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল তা বাংলাদেশের জন্য ছিল আত্মঘা*তী। সম্প্রতি সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন এর সাথে আগষ্ট বিপ্লবের অগ্র-সেনানী মেজর ডালিমের সাথে সাক্ষাৎকারে বিষটি আবারও উঠে আসে।
সেই ৭ দফা চুক্তি ছিলো সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে গোলাম বানানোর জিঞ্জির। এর মাধ্যমে তাজুদ্দিন-সৈয়দ নজরুলরা যুদ্ধকালেই দেশ লিখে দিয়েছিলো ইন্ডিয়াকে। মেজর ডালিমের ওই সাক্ষাৎকারে, মেজন ডালিম বলেন, ওই চুক্তিপত্রে সাক্ষর করে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি এ চুক্তি। মুজিবনগর সরকারের অনেকেই জানতেন না এ চুক্তির বিষয়। মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন মরহুম তাজউদ্দিন।
নুরুল কাদিরের লেখা “দুশো ছেষট্টি দিনে স্বাধীনতা” বইয়ের ৩২৫ পাতায় সে ৭ দফা চুক্তিটি উঠে এসেছে। চলুন জানার চেষ্টা করি কি ছিল সেই ৭ দফা আত্মঘাতী চুক্তিতে।
১.মুক্তিযুদ্ধ করেনি এমন কর্মকর্তাদেরকে চাকুরী থেকে অবসর দেয়া হবে। অভিজ্ঞ কর্মচারীর শূন্যতা পূরণ করবে ভারতীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
২. বাংলাদেশের নিজস্ব কোন সেনাবাহিনী থাকবে না।
৩. অভ্যন্তরীণ আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য একটি প্যারা মিলিশিয়া বাহিনী থাকবে।
৪. ভারতের সেনাবাহিনী থাকবে বাংলাদেশে। প্রতিবছর নভেম্বর মাসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ হবে। ৭২ সনের নভেম্বর থেকে এর কাজ শুরু হবে।
৫. বাণিজ্যিক সমঝোতা ছিল খোলা বাজার প্রতিষ্ঠা করা। সীমান্তের তিন মাইল জুড়ে চালু হবে খোলা বাজার। কোন নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। শুধু বছর শেষে হিসাব নিকাশ হবে। প্রাপ্য মেটানো হবে পাউন্ড, ষ্টার্লিং এর মাধ্যমে।
৬. বিদেশ বিষয়ে ভারত যা বলবে, তাই মেনে চলতে হবে। অর্থাৎ, সাউথ ব্লকের এনেক্স হবে সেগুন বাগিচা। এক কথায় বলা চলে উল্লেখিত চুক্তি বলে ভারত বাংলাদেশের সামরিক ও পররাষ্ট্র বিষয়ের কর্তৃত্ব পেয়ে যায়।
৭. পাকিস্তানের সাথে চুড়ান্ত লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিবেন ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধান। মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক সহপ্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পাবেন না। এ কারণেই জেনারেল ওসমানী আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের দর্শকের ভূমিকা পালন করতে রাজী হননি।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

