নবকণ্ঠ ডেস্কঃ ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে খালাস পেয়েছেন। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ঘটনা, যেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি আপিলে সম্পূর্ণ খালাস পেলেন। রায়ের ফলে তার মুক্তির পথ উন্মুক্ত হলো।
২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) রংপুর অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধকালে সংঘটিত গণহত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ ৬টি অপরাধের দায়ে আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর আপিল বিভাগ এ রায় বহাল রাখলেও পরবর্তীতে রিভিউ আবেদনের শুনানিতে প্রমাণের অভাব ও আইনি ত্রুটি তুলে ধরা হয়। গত ৮ মে শুনানি শেষে ২৭ মে রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করা হয়।
আজহারের পক্ষে আইনজীবীরা দাবি করেন, ট্রাইব্যুনালের রায়ে অভিযোগগুলোর সপক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও সাক্ষ্য উপস্থাপন করা হয়নি। বিশেষ করে, সাক্ষীদের বক্তব্যে অসামঞ্জস্যতা এবং দলিলপত্রের ঘাটতি ছিল। আপিল বিভাগ এই যুক্তি গ্রহণ করে রায় বাতিল করেন। জামায়াত নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরে এ মামলাকে “প্রহসন” বলে অভিহিত করে আসছিল। খালাসের রায়ে আদালতে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরসহ উচ্চপদস্থ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আজহারের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, “এই রায় আইনের শাসনের জয়কে প্রতিফলিত করে।”
আজহারুল ইসলামের খালাস বাংলাদেশের আইনি ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। তবে এই রায় কীভাবে জাতীয় সংহতি ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষাকে প্রভাবিত করে, তা ভবিষ্যতই বলবে।
-191
