নবকণ্ঠ ডেস্কঃ বিশিষ্ট রাজনীতি বিশ্লেষক ও সাবেক সামরিক গবেষক ড. তাজ হাশমী দাবি করেছেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বর্তমান প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ-জামানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য ও কার্যকলাপ ১৯৫২ সালের বাংলাদেশ আর্মি অ্যাক্টের আওতায় বিদ্রোহ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তার মতে, এই আইন অনুযায়ী এমন অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
তাজ হাশমী সম্প্রতি তার ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত একটি ভিডিওতে বলেন, “বাংলাদেশ আর্মি অ্যাক্ট ১৯৫২-এর ধারা ৩৪ অনুযায়ী, একজন সেনা কর্মকর্তার রাজনৈতিক বক্তব্য বিদ্রোহ হিসেবে গণ্য হয়। এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।”
আর্মি অ্যাক্টের ধারা ৩৪-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যদি কোন সেনা কর্মকর্তা সরকারবিরোধী বক্তব্য দেন বা রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেন, তবে তা “মিউটিনি” বা “বিদ্রোহ”-এর শামিল। এই অপরাধের সাজা মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, অথবা আদালত মার্শাল কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য কঠিন শাস্তি হতে পারে।
ড. হাশমীর এমন মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত, এবং সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠছে।
তিনি বলেন, “সেনাপ্রধান যদি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়েন, তবে তা কেবল আইন ভঙ্গ নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও হুমকি।”
তাজ হাসমী মনে করছেন সাম্প্রতিক সময়ে, সেনাপ্রধান যে বক্তব্য দিচ্ছেন তা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট এবং উল্লেখিত আইনি ধারা অনুযায়ী চাকরী বিধি লঙ্গন ও শাস্তি যোগ্য। তিনি বাংলাদেশ আর্মি অ্যাক্ট ১৯৫২-এর ধারা ৩৪ অনুযায়ী সেনা প্রধানের শাস্তি দাবি করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সেনাবাহিনীর মধ্যে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের যেকোনো প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে সাংবিধানিক শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
