নবকণ্ঠ ডেস্কঃ ইউরোপজুড়ে অভিবাসন নীতির বিতর্কের মধ্যেই পর্তুগালের অস্থায়ী সরকার দেশটিতে অবৈধভাবে অবস্থানরত প্রায় ১৮ হাজার বিদেশি নাগরিককে বিতাড়নের ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এসেছে ১৮ মে’র আগাম সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে, যখন দেশটিতে চলছে অর্ধশতকের সবচেয়ে তীব্র রাজনৈতিক সংকট।
প্রেসিডেন্সি মন্ত্রী অ্যান্টোনিও লেইটাও আমারোর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, প্রথম ধাপে ৪,৫০০ অবৈধ অভিবাসীকে ২০ দিনের মধ্যে স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হবে। বাকিদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আমারো দাবি করেন, “ডেপোর্টেশন ব্যবস্থা সংস্কার জরুরি; নিরাপত্তা ঝুঁকিসহ নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিতাড়নে ইউরোপের মধ্যে আমরা সবচেয়ে পিছিয়ে।”
গত মার্চে সংসদে আস্থাভোট হারানোর পর প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রো সরকার পদত্যাগ করলে এই হঠাৎ নির্বাচনের ডাক পড়ে। তার নেতৃত্বাধীন মধ্য-ডানপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (পিএসডি) জোট সরকার মাত্র ৮০ আসন নিয়ে সংখ্যালঘু অবস্থায় ছিল। বিরোধী দলগুলো—বামপন্থী সোশ্যালিস্ট পার্টি ও অতি-ডানপন্থী শেগা একত্রিত হয়ে সরকারকে ক্ষমতাচূত্য করে। ১৯৭৪-এর কার্নেশন বিপ্লবের পর গণতান্ত্রিক পর্তুগাল এতটা অস্থিতিশীলতা দেখেনি।
উল্লেখ্য রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এসেছে এমন সময়ে, যখন পর্তুগাল ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২২ বিলিয়ন ইউরো তহবিল কাজে লাগিয়ে অর্থনীতি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সরকারি অচলাবস্থায় এই প্রকল্পগুলি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এদিকে, ডানপন্থী জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির ইউরোপীয় প্রবণতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে অভিবাসন-বিরোধী এই নীতি নির্বাচনে ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেগা দলের উত্থান পর্তুগালের ঐতিহ্যগত দ্বি-দলীয় ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করছে। অভিবাসন নীতি কঠোর করা হলেও অর্থনৈতিক মন্থরতা ও দুর্নীতির অভিযোগ মূল রাজনৈতিক বিতর্ককে সরিয়ে দেবে কি না, তা এখনই স্পষ্ট নয়। ইউরোপজুড়ে নির্বাচনী বছরগুলোতে অভিবাসন প্রায়ই একটি সংবেদনশীল ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়, পর্তুগালও এর ব্যতিক্রম নয়।
এই সিদ্ধান্তের আইনি ও মানবাধিকার সংক্রান্ত জটিলতা, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য দেশের প্রতিক্রিয়া এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
