
নবকণ্ঠ ডেস্কঃ অভিবাসী নিয়ে বরাবরের মতই দুশ্চিন্তায় পোল্যান্ড সরকার। দেশটির ডানপন্থী প্রধানমন্ত্রী মাতেউসজ মোরাউইকি জানিয়েছেন যে ইইউ’র নতুন অভিবাসন পরিকল্পনার উপর তিনি গণভোটের আয়োজন করবেন।তিনি বলেছেন যে এই গণভোটের মাধ্যমে ভোটারদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে যে তারা মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকা থেকে আগত হাজার হাজার অভিবাসীদেরকে গ্রহণ করতে ইচ্ছুক কি না!
তিনি রবিবার অনলাইনে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বলেছেন যে গণভোটটি ১৫ অক্টোবর সংসদীয় নির্বাচনের সাথে একসাথে অনুষ্ঠিত হবে এবং নির্বাচনের মূল বিষয় হবে অভিবাসন ও নিরাপত্তা, কারণ মোরাউইকির ক্ষমতাসীন দল, ‘আইন ও বিচার পার্টি (পিআইএস)’ ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়। তার ভিডিওটিতে পশ্চিম ইউরোপের রাস্তায় রাস্তায় বিভিন্ন সহিংসতার দৃশ্য দেখানো হয়েছে।
এসব দৃশ্যের সাথে পিআইএস নেতা জরস্লো কাকজিনিস্কি’র কন্ঠে শোনা যায় কয়েকটি প্রশ্ন, যেমন- “তোমরা কি চাও পোল্যান্ডে ও এমন হোক? তোমরা কি নিজের দেশে নিজেদের কতৃত্ব হারিয়ে ফেলতে চাও?”
ব্লকে বিনা অনুমতিতে প্রবেশকৃত অভিবাসীদের দায়িত্ব ইইউ’র সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়ার পরিকল্পনায় মোরাউইকির সরকার দীর্ঘদিন ধরে বাধা দিয়ে আসছিলো।
যদিও গত জুনে পোল্যান্ড ও হাংগেরি সহ কিছু সদস্য রাষ্ট্রের আপত্তি থাকা সত্বেও ইইউ’র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে অভিবাসীদের ব্যাপারে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ইউক্রেন – রাশিয়া যুদ্ধে পোল্যান্ড প্রায় ১ মিলিয়নেরও বেশি ইউক্রেনীয়কে আশ্রয় দিয়েছে।তবে এসব ইউক্রেনীয়রা মূলত শ্বেতাঙ্গ এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।
তবে অনেক বছর ধরেই দেশটির রাজনৈতিক নেতারা অভিবাসী আশ্রয়ের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে ২০১৫ সালের রিফিউজি সংকটের সময় থেকে তারা মুসলিম ও ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে আসছে কারণ তারা মনে করে যে এসব অভিবাসী পোল্যান্ডের সংস্কৃতি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
-311
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
