প্যারিসে ১৯৯৬ সালের নথিবিহীন জনতার আন্দোলন স্মরণে স্মারক উন্মোচন

প্যারিসে ১৯৯৬ সালের নথিবিহীন জনতার আন্দোলন স্মরণে স্মারক উন্মোচন

নবকণ্ঠ ডেস্ক: ১৯৯৬ সালের ২৩ আগস্ট প্যারিসে কাগজপত্রহীন মানুষের ঐতিহাসিক আন্দোলন ও তাদের ওপর সংঘটিত উচ্ছেদের ঘটনা স্মরণে ফ্রান্সের প্যারিস ১৮তম অ্যারোঁদিসমঁ-তে একটি স্মারক উন্মোচন করা হয়েছে। বুধবারের এই আয়োজনে প্যারিসের বিভিন্ন এলাকার মেয়র ও ডেপুটি মেয়র, সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি এবং কাগজপত্রহীন মানুষের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা ব্যক্তিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সলিদারিতে এজি ফ্রঁস (এসএএফ)-এর সভাপতি নয়ন এনকে, সহ-সভাপতি তাওহিদ আহমেদ এবং সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরাও কাগজপত্রহীন মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন প্যারিস ১৮তম অ্যারোঁদিসমঁ-এর মেয়র M. Éric Lejoindre। তিনি কাগজপত্রহীন মানুষের অধিকার ও মর্যাদার পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পরে Association 75-এর সভাপতি আবু বকর, প্যারিস ১৮-এর অন্যান্য নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগরী বলেন, কাগজপত্রহীন মানুষের ন্যায্য অধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্নে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সংহতি ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। বক্তারা মনে করেন, অধিকারবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সামাজিক দায়বদ্ধতা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

১৯৯৬ সালের আগস্টে প্যারিস ১৮তম অ্যারোঁদিসমঁ-এর সাঁ-বার্নার গির্জায় দুই শতাধিক কাগজপত্রহীন মানুষ আশ্রয় নেন। বৈধ কাগজপত্রের অনুপস্থিতির পাশাপাশি তাদের অনেকেরই নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা ছিল না। নিজেদের অধিকার ও নিয়মিতকরণের দাবিতে তারা গির্জায় অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। সে সময় গির্জার ফাদার তাদের আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও খাবার, পোশাকসহ বিভিন্ন সহায়তা নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ান।

তবে ২৩ আগস্ট ১৯৯৬ সালে সরকারি নির্দেশে পুলিশ গির্জার দরজা ভেঙে সেখানে অবস্থানরত কাগজপত্রহীন মানুষদের জোরপূর্বক বের করে দেয়। এরপর তাদের অনেকেই দেশ থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হন। ঘটনাটি ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং কাগজপত্রহীন মানুষের অধিকার ও মানবিক মর্যাদার দাবিতে হাজারো মানুষ রাজপথে নেমে আসেন।

পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালের সাঁ-বার্নার গির্জার ঘটনা ফ্রান্সে কাগজপত্রহীন মানুষের অধিকার নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত হয়। অধিকার, বৈধতা, নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদার দাবিতে গড়ে ওঠা সেই আন্দোলনের স্মৃতি আজও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও অধিকারকর্মীদের কর্মকাণ্ডে প্রতিফলিত হচ্ছে।

স্মারক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে ১৯৯৬ সালের সেই ঘটনার স্মৃতিকে বর্তমান সময়ের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। আয়োজনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলেন, কাগজপত্রহীন মানুষও সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে সামাজিক সংহতি এবং অধিকারভিত্তিক আন্দোলন ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে হবে।

 

 

নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.