নবকণ্ঠ ডেস্ক: ইউরোপের তরুণ আইনজীবীদের অংশগ্রহণে জার্মানির কোলনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকারবিষয়ক বক্তৃতা প্রতিযোগিতা ‘এফবিই ইয়ং লইয়ার্স হিউম্যান রাইটস ওরেটরি কম্পিটিশন ২০২৬’-এ অংশগ্রহণ করেছেন ইতালিপ্রবাসী বাংলাদেশি অ্যাডভোকেট সাইদুল আব্দুল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ আইনজীবী, প্রশিক্ষণার্থী এবং আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
গত ২২ থেকে ২৪ অক্টোবর জার্মানির কোলন শহরে এ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আইনজীবীদের মধ্যে পেশাগত যোগাযোগ বৃদ্ধি, তরুণ আইনজীবীদের মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং যুক্তিনির্ভর বক্তব্য উপস্থাপনের দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পরিস্থিতি, আইনের শাসন এবং জনস্বার্থে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়ে নিজেদের চিন্তা ও বিশ্লেষণ তুলে ধরার সুযোগ পান।

এবারের প্রতিযোগিতার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘জনঅংশগ্রহণ দমনে কৌশলগত মামলা বা স্ল্যাপ: একবিংশ শতাব্দীর একটি আইনি হাতিয়ার’। ইংরেজিতে স্ট্র্যাটেজিক লসুটস এগেইনস্ট পাবলিক পার্টিসিপেশন (Strategic Lawsuits Against Public Participation—SLAPP) নামে পরিচিত এ ধরনের মামলা সাধারণত সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, নাগরিক সংগঠন এবং জনস্বার্থে মতপ্রকাশকারী ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে দায়ের করা হয়। এসব মামলার মাধ্যমে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল আইনি প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, অনুসন্ধানী কার্যক্রম কিংবা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্যোগ নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করা হতে পারে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে এ ধরনের মামলার প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। কারণ, আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার জনস্বার্থে কথা বলা, অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং ক্ষমতাসীন বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করার স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। একই সঙ্গে আইনজীবীদের পেশাগত নৈতিকতা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং মানবাধিকার সুরক্ষার দায়িত্বও এ আলোচনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা নির্ধারিত প্রতিপাদ্যের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে নিজেদের যুক্তি ও বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তাঁদের বক্তব্যের বিষয়বস্তু, যুক্তির গ্রহণযোগ্যতা এবং উপস্থাপনার দক্ষতা বিবেচনায় বিচারকমণ্ডলী নির্বাচিত চারজন প্রতিযোগী চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। প্রতিযোগিতার সমাপ্তিতে ফলাফল ঘোষণা করা হয় এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ট্রফি ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
আয়োজনে পালেরমো বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি অ্যাডভোকেট সাইদুল আব্দুল বলেন, “এটি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা আজকের বিশ্বে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং জনস্বার্থে কথা বলার স্বাধীনতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।”
আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের আয়োজন বিভিন্ন দেশের আইনজীবীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি মানবাধিকার বিষয়ে জ্ঞান ও উপলব্ধি বাড়াতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বক্তব্য উপস্থাপন, যুক্তি বিশ্লেষণ এবং পেশাগত দক্ষতা বিকাশের ক্ষেত্রেও এ ধরনের প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অ্যাডভোকেট সাইদুল আব্দুলের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাবিষয়ক আলোচনায় একজন বাংলাদেশি আইনজীবীর অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশের আইনজীবী ও আইনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তিনি নতুন অভিজ্ঞতা ও অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বলে জানান। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ শেষে গতকাল তিনি ইতালিতে ফিরে আসেন।
মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তরুণ আইনজীবীদের অংশগ্রহণ ক্রমেই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে জনস্বার্থে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার প্রতিরোধে আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়ে এ ধরনের আয়োজন নতুন আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্র তৈরি করে। সেই প্রেক্ষাপটে জার্মানিতে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় ইতালিপ্রবাসী বাংলাদেশি অ্যাডভোকেট সাইদুল আব্দুলের অংশগ্রহণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
