নবকণ্ঠ ডেস্ক: প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা ছড়িয়ে দেওয়া এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বই পড়ার অভ্যাস ধরে রাখার লক্ষ্যে ইতালিতে একটি সমৃদ্ধ ও স্থায়ী পাঠাগার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে বাংলা প্রেসক্লাব ইতালি। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ মনে করেন, প্রবাসে জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের বাংলা সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত করা এবং দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক শিকড়ের সঙ্গে তাদের সংযোগ অটুট রাখতে একটি পাঠাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশের স্বনামধন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও লেখক কামরুল হাসান শায়কের ইতালি সফর উপলক্ষে আয়োজিত এক সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপচারিতা অনুষ্ঠানে এ দাবি উত্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার বর্তমান অবস্থা, নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ তৈরি এবং বাংলা সংস্কৃতির বিকাশে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।

রোববার সন্ধ্যায় রোমের পরিচিত সিলেট কাফি শপে বাংলা প্রেসক্লাব ইতালির উদ্যোগে এ আড্ডা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা লুৎফুর রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক মিনহাজ হোসেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক লাবণ্য চৌধুরী ও প্রচার সম্পাদক জায়েদুল হক সোহেল। তাঁদের বক্তব্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সাহিত্যচর্চা জোরদার করা এবং বাংলা ভাষার প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইতালি বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মাইনুল আলম খোকন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, কবি ও সাহিত্যিক আলতাফ হোসেন, বৃহত্তর নোয়াখালী সমিতি ইতালির সভাপতি আলাউদ্দিন শিমুল, নোয়াখালী ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে আজাদ এবং বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব মোজাম্মেল হোসেন মোল্লা। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন নারী নেত্রী জহুরা ঈশিতা, বৃহত্তর সিলেট ইয়াং স্টার ক্লাবের সভাপতি প্রিন্স হাসান আহমেদসহ ইতালিপ্রবাসী বিশিষ্ট সাহিত্যিক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, প্রবাসজীবনে কর্মব্যস্ততা, পারিবারিক দায়িত্ব এবং ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির পরিবেশের মধ্যেও মাতৃভাষার চর্চা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রবাসে জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের বাংলা ভাষা শেখানো এবং বাংলা সাহিত্য পাঠে আগ্রহী করে তুলতে পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বইয়ের বিকল্প নেই। বাংলা সাহিত্য, কবিতা, গল্প, উপন্যাস, ইতিহাস ও সংস্কৃতিবিষয়ক বইয়ের সঙ্গে নিয়মিত পরিচিতি নতুন প্রজন্মকে নিজেদের শিকড় সম্পর্কে জানতে সহায়তা করবে।
বক্তারা আরও বলেন, ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য একটি স্থায়ী ও সমৃদ্ধ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করা গেলে তা শুধু বই পড়ার স্থান হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সাহিত্যসভা, লেখক-পাঠক মতবিনিময়, শিশু-কিশোরদের পাঠচক্র এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক বিভিন্ন আয়োজনের কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে। এর মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি ইতালিতে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সাহিত্যকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করাও সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও লেখক কামরুল হাসান শায়ক প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রসারে এ ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বাংলা সাহিত্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ইতালিতে একটি পাঠাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হলে ভবিষ্যতে সার্বিক সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের এ মতবিনিময় সভায় প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চাকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্বও উঠে আসে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা কাজে লাগানো গেলে ইতালিতে একটি কার্যকর পাঠাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথ সুগম হতে পারে। এর মাধ্যমে প্রবাসী নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা বই পৌঁছে দেওয়া এবং মাতৃভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
