নবকণ্ঠ ডেস্কঃ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (আইএনসি) দল রাহুল গান্ধীকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে দেখতে চায়। কংগ্রেস দলের শীর্ষ নেতারা এবং কর্মীরা বিশ্বাস করেন যে রাহুল গান্ধী দলের নেতৃত্বে থাকা উপযুক্ত এবং দলের শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন। অধিকাংশ কংগ্রেস নেতা মনে করেন, লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা হিসেবে রাহুলেরই বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব নেওয়া উচিত। এমনটি হলে তিনি ২০২৯ এর লোকসভা নির্বাচনে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী পদের দাবিদার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে পারবেন। এখন এই প্রস্তাবে রাজি হবেন কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন।
রাহুল গান্ধী ইতিপূর্বে কংগ্রেস দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দলের নীতি ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং জনগণের সাথে যোগাযোগের ক্ষমতা তাকে এই দায়িত্বের জন্য যোগ্য করে তোলে। বিরোধী দলনেতা হিসেবে তিনি দেশের প্রধান রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান নিতে পারবেন এবং কংগ্রেস দলের অবস্থান স্পষ্ট করতে সক্ষম হবেন।
তবে কংগ্রেসের আরেকটি অংশের মত হলো, রাহুল কোনোদিনই সারাদিন সংসদে বসে থাকার ব্যক্তি নন। ফলে তার পক্ষে বিরোধী দলনেতার ভূমিকা পালন করা কঠিন। সংসদে বসে থাকার বদলে তিনি ভারত জোড়ো যাত্রার মতো প্রচারে বা সংগঠন মজবুত করার কাজে বেশি আগ্রহী।
এবারের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস আগের বারের চেয়ে ৪৭টি আসন বেশি পেয়েছে। ভোটের হারও বেড়েছে। কিন্তু ৯৯টি আসন জিতলেও বহু রাজ্যে দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতা স্পষ্ট।
কংগ্রেস দলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া এবং অভ্যন্তরীণ সমর্থনের ভিত্তিতে রাহুল গান্ধীর এই ভূমিকা গ্রহণ করা সম্ভাব্য। দলীয় নেতারা এবং সদস্যরা একমত হলে, তিনি শীঘ্রই এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন।
তবে রাহুল রাজি না হলে লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা তথা বিরোধী দলনেতা কে হবেন, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। পুরনো সংসদ সদস্যদের মধ্যে শশি থারুর, মণীশ তিওয়ারি ও কে সি বেণুগোপাল লোকসভায় জিতে এসেছেন। বেণুগোপাল রাহুলের সবচেয়ে আস্থাভাজন হলেও, তিনি এখন কংগ্রেসের সাংগঠনিক সম্পাদক। ফলে তাকে লোকসভার বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব দিলে সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে সরানোর দাবি উঠতে পারে।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
