নবকণ্ঠ ডেস্কঃ বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার জন্য ন্যূনতম ব্যাংক ব্যালেন্স বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ঘোষণায় দেশটি রেকর্ড অভিবাসন রোধ করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জাল নিয়োগের ব্যাপারেও বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হয়েছে।
নতুন নিয়মানুযায়ী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের তাদের ভিসা পেতে কমপক্ষে ২৯ হাজার ৭১০ অস্ট্রেলীয় ডলার বা, ১৯ হাজার ৫৭৬ মার্কিন ডলারের ব্যাংক ব্যালেন্স দেখাতে হবে। গত সাত মাসের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসার জন্য ন্যূনতম ব্যাংক ব্যালেন্সের পরিমাণ বাড়ল দ্বিতীয় ধাপে। গত অক্টোবরে ন্যূনতম ব্যাংক ব্যালেন্স ২১ হাজার ৪১ অস্ট্রেলীয় ডলার থেকে বাড়িয়ে ২৪ হাজার ৫০৫ অস্ট্রেলীয় ডলার করা হয়েছিল।
এই বিষয়ে প্রচেষ্টার অংশে অস্ট্রেলিয়া বিভিন্ন নিয়ম ও ব্যবস্থা স্থাপন করেছে, যেখানে একদিকে অভিবাসীদের সুরক্ষা ও মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে, অপরদিকে শোষণমূলক নিয়োগ বাধা দেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানিক মানদন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও, ভিসার নিয়মাবলী কঠোর করা হয়েছে যাতে অসৎ অভিবাসীদের প্রবেশ বাধানো যায়।
২০২২ সালে করোনা মহামারির বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পর দেশটিতে অভিবাসীরা ব্যাপক হারে আসতে থাকে। এতে দেশটিতে বাসা ভাড়া অনেক বেড়ে যাওয়ায় সরকারের ওপর চাপ তৈরি হয়। তাই অভিবাসী নীতি কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। এ লক্ষ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে স্টুডেন্ট ভিসার নিয়ম কঠোর করার জন্য বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেয় অস্ট্রেলিয়া।
এই উপায়ে অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা খাতে ভিসা প্রাপ্তি সাধারণত যাচাই ও পরিষ্কারভাবে অনুমোদিত হয়ে যাচ্ছে, এবং ভিসা প্রাপ্তিতে ভুয়া অভিবাসীদের মাত্রা কমানোর অভিযান চালানো হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্লেয়ার ও’নিল বলেছেন যে, অভিবাসনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনছি এবং যুদ্ধ বা মহামারির বাইরে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে অভিবাসন সংখ্যা সবচেয়ে কমিয়ে আনার জন্য প্রয়াস চালানো হয়েছে। এই প্রয়াসে অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসী নীতির কঠোরতা এবং প্রবেশবিধানের পরিমাণকে বৃদ্ধি করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ছাত্রদের জন্য এক নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমাদের আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতে অসৎ ও প্রতারক নিয়োগদাতাদের কোনো স্থান নেই। গৃহীত পদক্ষেপগুলোর ফলে এই খাতে অসৎ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাদ দেওয়া যাবে—যারা মানুষকে শোষণ এবং আমাদের দেশের শিক্ষা খাতের সুনাম নষ্ট করতে চায়।’
অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্লেয়ার ও’নিল আরো বলেন, আমরা অভিবাসনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনছি। যুদ্ধ বা মহামারির বাইরে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে অভিবাসন সংখ্যা সবচেয়ে কমিয়ে আনার দ্বারপ্রান্তে রয়েছি আমরা।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
