ক্ষতি পোষাতে কর্মী ছাঁটায়ের পথে দারাজ

ক্ষতি পোষাতে কর্মী ছাঁটায়ের পথে দারাজ

নবকণ্ঠ ডেস্কঃ চীনের আলিবাবা কোম্পানির মালিকানাধীন ই–কমার্স প্ল্যাটফর্ম দারাজ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। কর্মীদের কাছে পাঠানো একটি বার্তায় দারাজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেমস ডং জানিয়েছেন, একটি সুবিন্যস্ত ও কর্মতৎপর কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে গ্রুপের সব পর্যায়ে কর্মী ছাঁটাই করা হবে।

ঠিক কতজন কর্মী এর ফলে চাকরি হারাবেন, সেটি কোম্পানির ওই অভ্যন্তরীণ বার্তায় নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারে দারাজের কার্যক্রম আছে। এসব দেশে ঠিত কত শতাংশ কর্মী বা সব মিলিয়ে কতজন কর্মী চাকরি হারাতে পারেন, সে সম্পর্কে স্পষ্ট করেনি দারাজ।

সূত্র আরও জানায়, বাংলাদেশের অনেক কর্মীও ছাঁটাইয়ের তালিকায় আছেন। গতকাল দারাজ গ্রুপের ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত সিইও জেমস ডং ছাঁটাইয়ের বিষয়টি কর্মীদের জানান বলে বৈঠকে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের কয়েকজন জানিয়েছেন।

গত মাসে জার্ক মিক্কেলসেন প্রধান নির্বাহীর পদ ছাড়ার পর জেমস ডং দায়িত্ব নেন। এ বিষয়ে অবগত জানিয়েছেন, কয়েকজন উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাকেও বরখাস্ত করা হচ্ছে। সূত্র অনুসারে, দারাজ বাংলাদেশ চুক্তির ভিত্তিতে ৮০০-র বেশি কর্মী নিয়োগ দিয়েছে। তাদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে।

দারাজের এক কর্মী বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটিকে লাভজনক করতে কর্মী ছাঁটাই করা হচ্ছে।’ বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর ছাঁটাইয়ের ঘোষণাটিকে দেশের ই-কমার্স খাতে বড় ধাক্কা বলে মন্তব্য করেছেন।

দারাজ গ্রুপের ছাঁটাই পদক্ষেপের বিষয়ে সমাচারটি অনেকটা উদাহরণ দেখাচ্ছে কীভাবে বস্তুসংগ্রহ ও ডিজিটাল বাজারের প্রসারের বিকল্প বিচারে কোম্পানিগুলি পরিবর্তন করছে। বাংলাদেশে এই ধরনের ছাঁটাই কর্মসংস্থানের পরিবর্তনের প্রভাব হতে পারে সাধারণ কর্মসংস্থানের মাধ্যমে চাকরির সংখ্যা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি।

এই সাংবাদিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দারাজ গ্রুপের এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের কোনও অস্থিত্বশীল ই-কমার্স বা ডিজিটাল সেবা ব্যবসা উদ্যোগী প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের ব্যবসা সংক্রান্ত নতুন ধারণা গ্রহণ করতে পারেন। এছাড়াও, এই ঘটনাটি যে বিকল্প চাকরির সৃষ্টি করে তা বোঝা যায় যেখানে এই সেক্টরের জন্য ক্ষেত্র বিস্তৃত হতে পারে।

ফাহিম মাশরুরের মন্তব্য থেকে বোঝা যায় যে দারাজ গ্রুপ এই পরিবর্তনের মধ্যে নিজেদের উদ্যোগিতা এবং প্রতিস্থান পরিবর্তনে মানসিকভাবে সমর্থিত হওয়ার প্রতি নিশ্চিত। তারা যে ব্যবসা প্রকৃতি ও প্রযুক্তির প্রসারে আগ্রহী, তাদের জন্য এই সিদ্ধান্ত একটি আঙ্খাকিত পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।

তার মতে, অনেক তরুণ স্নাতক যারা ডিজিটাল কমার্স বিভাগে ক্যারিয়ার গড়তে চান তারা এখন নতুন করে ভাববেন। ‘চলমান অর্থনৈতিক মন্দার কারণে চাকরির বাজার ইতোমধ্যে কঠিন হওয়ায় যারা দারাজ থেকে চাকরি হারাতে যাচ্ছেন তাদের দ্রুত চাকরি পাওয়া কঠিন হতে পারে,’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এটি হবে দেশের ই-কমার্স ও ডিজিটাল সেবা ব্যবসায় অন্যতম বৃহৎ ছাঁটাই। এর আগে ফুডপান্ডা কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। অন্য প্রতিষ্ঠান শপআপও প্রায় এক হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে দারাজ মূল কর্মীর সংখ্যা ১১ শতাংশ কমানোয় বাংলাদেশে কয়েক ডজন কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়।

-191

 

 

নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.