নবকণ্ঠ ডেস্কঃ সম্প্রতি ডলারের বিপরীতে ইয়েনের উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির নীতিনির্ধারকরা অর্থনীতির কাঠামোগত বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিচ্ছেন। কারণ মুদ্রার পতন ঠেকানোর ক্ষেত্রে এখনো কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
ইয়েনের পতন গত কয়েক বছর ধরে চলমান একটি প্রবণতা। এটি মূলত শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে এবং গত তিন বছরে ইয়েন তার মূল্য প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হারিয়েছে। জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধির মাধ্যমে এই অবস্থা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছে, তবে এখনও পর্যন্ত এটি বিশেষ কার্যকর হয়নি।
চলতি বছরের এপ্রিল থেকে মে মাসের শুরুর দিক পর্যন্ত মুদ্রার পতন ধীর করার জন্য জাপান প্রায় ৯ ট্রিলিয়ন ইয়েন ব্যয় করেছে। ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রার মান কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬০ ইয়েনে, যা ৩৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ইয়েনের পতন রোধ করার জন্য জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সময়ে হস্তক্ষেপ করেছে। ২০২২ সালে, তারা প্রায় ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করেও ইয়েনের পতন ঠেকাতে পারেনি। বর্তমানে, মার্কেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে শুধুমাত্র হস্তক্ষেপ ইয়েনের পতনকে ধীর করতে পারে, তবে এর দিক পরিবর্তন করতে পারে না।
এই অবমূল্যায়নের প্রভাব মিশ্রিত। যদিও এটি জাপানের রপ্তানিকারকদের জন্য উপকারী হতে পারে, কারণ এটি তাদের পণ্যগুলিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সস্তা করে তুলছে, তবে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে। এছাড়া, পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে, কারণ বেশি সংখ্যক বিদেশি পর্যটক জাপানে ভ্রমণ করছেন।
জাপানের ইয়েনের পতন রোধ করার জন্য কাঠামোগত সংস্কারে মনোযোগ দেওয়া অপরিহার্য। কাঠামোগত সংস্কার মানে অর্থনৈতিক নীতির মৌলিক পরিবর্তন যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারে।
জাপানের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার করতে হবে যাতে বয়স্ক জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাপ সামলানো যায়। পেনশন ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং খরচ কমিয়ে আনা জরুরি। এই কাঠামোগত সংস্কারগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে জাপানের অর্থনীতি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল হবে এবং ইয়েনের মানের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

