নবকণ্ঠ ডেস্কঃ জাপান কর্মী সংকট মোকাবিলায় অভিবাসনে জোর দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, জাপানের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়া এবং বার্ধক্যের কারণে কর্মী সংকট দেখা দিয়েছে। এ সংকট মোকাবিলার জন্য, জাপান সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, যার মধ্যে অভিবাসন নীতি শিথিল করা অন্যতম।
নিম্নগামী জন্মহার ও বার্ধক্যে জর্জরিত জাপান এখন নজর দিচ্ছে প্রযুক্তি শিল্প ও অভিবাসনের দিকে, যাতে করে দক্ষ কর্মীর সংকট কিছুটা কমানো যায়৷
নার্সিং ও বয়স্ক মানুষের দেখাশোনার খাতে বড় সংকট দেখা দিচ্ছে জাপানে৷ এই সংকট রয়েছে নির্মাণ খাত ও ডেলিভারি ব্যবসাতেও৷ বড় ধরনের সংকট রয়েছে প্রশিক্ষিত শিক্ষকদেরও৷ গত বছর শিক্ষা খাতে দক্ষ কর্মী টানতে পাঁচশ মিলিয়ন জাপানি ইয়েন (৩৭ কোটি বাংলাদেশি টাকা) বিনিয়োগ করে জাপান সরকার৷
২০১৯ সালে একটি নতুন ব্যবস্থা চালু হয় যার মাধ্যমে যে খাতে সবচেয়ে চরম কর্মী সংকট, তাতে পাঁচ বছরের জন্য কাজ করতে আসতে পারবেন বিদেশিরা৷ এছাড়া, যারা ‘উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন’ কর্মী, তাদের কাছে সুযোগ থাকবে স্থায়ীভাবে জাপানে থেকে যাবার। কিন্তু প্রথম বছরের প্রথম মাসে, আসে তিন হাজার কর্মী, যার পর করোনাকালীন কড়াকড়ি অভিবাসীদের আগমন আরো কঠিন করে দেয়৷
সম্প্রতি আবার অভিবাসীদের টানতে সচেষ্ট হয়েছে জাপান৷ সোমবার তারা ঘোষণা করে যে, দক্ষ কর্মী আসতে পারবে এমন খাতের তালিকায় আরো চারটি কাজকে যুক্ত করা হয়েছে৷ সাথে, বাস, ট্রেন বা ট্রাকচালক হিসাবে আসার ভিসার সংখ্যাও বাড়াচ্ছে তারা৷
তাছাড়া জাপান বিদেশি শিক্ষার্থীদের তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাগ্রহণে উৎসাহিত করছে। উচ্চশিক্ষা শেষে, এই শিক্ষার্থীরা জাপানের কর্মী বাজারে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এজন্য বিভিন্ন স্কলারশিপ প্রোগ্রাম এবং শিক্ষানবিশ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
জাপানের কর্মী সংকট মোকাবিলায় অভিবাসন নীতি শিথিলকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিদেশি কর্মীদের জাপানের অর্থনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাদের জন্য একটি ইতিবাচক কর্মপরিবেশ তৈরি করা দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
