নবকণ্ঠ ডেস্কঃ জার্মানির বিরুদ্ধে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন পাঁচজন গাজা নিবাসী, যাদের পক্ষে ইউরোপীয় সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (ECCHR) এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠন কাজ করছে। এই মামলাটি জার্মান সরকার ৩,০০০ ট্যাংকবিরোধী অস্ত্র ইসরায়েলকে রপ্তানির অনুমোদন দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দায়ের করা হয়েছে।
ইসিসিএইচআর-এর কাছে ‘বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে যে, এই ধরণের অস্ত্র দিয়ে ইসরায়েল গাজার বেসামরিক মানুষের বিরুদ্ধে অপরাধ করছে৷ এসব অপরাধের মধ্যে আছে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, যা সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রধান প্রসিকিউটর নিশ্চিত করেছেন।
ইসরায়েল যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে তারা হামাসের বিরুদ্ধে লড়ছে৷ যুক্তরাষ্ট্র, ইইউসহ আরও অনেকে হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করে৷
এই মামলা জার্মান প্রশাসনিক আদালতে দায়ের করা হয়েছে, যেখানে রপ্তানি লাইসেন্সগুলি স্থগিত করার আবেদন জানানো হয়েছে। মামলাকারীরা অভিযোগ করছেন যে, জার্মানির এই অস্ত্র সরবরাহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করছে এবং গাজায় যুদ্ধাপরাধে সহায়তা করছে।
জার্মান আইন অনুযায়ী ‘যুদ্ধাস্ত্র’ বলতে ট্যাংক, বোমা এবং মিসাইল বোঝায়৷ এই সংজ্ঞায়, জার্মানি ইসরায়েলে যে অস্ত্র রপ্তানি করেছে তার মাত্র দুই শতাংশ যুদ্ধাস্ত্র৷ ইসিসিএইচআর বার্লিনের আদালতে যে মামলা করেছে সেখানে এই অস্ত্রগুলোই বিবেচ্য হবে৷
জার্মান সরকার বলেছে যে, তারা প্রতিটি অস্ত্র রপ্তানির আবেদন পৃথকভাবে পর্যালোচনা করে এবং মানবাধিকার ও মানবিক আইনের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
এই মামলাটি ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে মানবাধিকার সংস্থাগুলি জার্মানির নীতি এবং অস্ত্র রপ্তানির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
