রাষ্ট্র সংস্কারে জামাআতের দশ দফা

রাষ্ট্র সংস্কারে জামাআতের দশ দফা

নবকণ্ঠ ডেস্কঃ রাষ্ট্রের সংস্কার ও মেরামতের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা, নির্বাচন ব্যবস্থা, সংসদ, শিক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান প্রধান সেক্টরের সংস্কারের প্রস্তাবনা পেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে হোটেল ওয়েস্টিনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ‘রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবনা’ উপস্থাপন করেন দলের আমির ডা. মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।

ডা শফিকুর রহমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দশ দফা রাষ্ট্রের সংস্কার প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। প্রস্তাবনা তুলে ধরে আগে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘স্বৈরশাসনের কবল থেকে মুক্ত বাংলাদেশে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবনা তুলে ধরার সুযোগ পেয়ে মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি, আলহামদুলিল্লাহ।’ গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন মহান রাব্বুল আলামিন তাদেরকে শহীদ হিসেবে কবুল করুন। যারা আহত হয়েছেন তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’

প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে রয়েছে, আইন ও বিচার বিষয়ক সংস্কার, সংসদবিষয়ক সংস্কার, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা সংস্কার, জনপ্রশাসন সংস্কার, দুর্নীতি দমন, সংবিধান সংস্কার, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংস্কার, পররাষ্ট্রবিষয়ক সংস্কার ও ধর্ম মন্ত্রণালয় সংস্কার।

নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা, পররাষ্ট্র, সংসদ, চাকরি, শিক্ষা এবং বিনোদনসহ ১০টি খাতে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই প্রস্তাবগুলো নির্বাচিত কোনো সরকারের জন্য নয় জানিয়ে দলটি জানায়, তাদের মোট ৪১টি প্রস্তাব আছে। তার মধ্যে আপাতত গুরুত্বপূর্ণ ১০টি প্রস্তাব অন্তর্বর্তী সরকারকে দেওয়া হলো।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থা স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হয়, আওয়ামী লীগ নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিল, কেয়ারটেকার সরকারব্যবস্থা বাতিল করেছিল। এখন এটি অন্তর্ভুক্ত করতে এবং ইভিএম বাতিল করতে হবে।

এ সময় সরকারি চাকরিতে প্রশ্নফাঁস বা দুর্নীতি করে যারা চাকরি পেয়েছে, তাদের নিয়োগ বাতিল করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে দুদককে শক্তিশালী করে স্বাধীনভাবে কাজ করার ব্যবস্থা করতে প্রস্তাব দেয়া হয়। পরপর দু বারের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না — এমন প্রস্তাবনা দিয়ে জামায়াতে ইসলামের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ব্যবহারে ভাগভাগি থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণহত্যায় জড়িত যারা পালিয়ে গেছে, তাদের ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আগে নির্বাচন, না আগে সংস্কার — এ প্রশ্নে জামায়াত আমির বলেন, দুটি রোডম্যাপ হবে। একটা সংস্কারের, আর একটা নির্বাচনের। তবে সময় যেনো অতি দীর্ঘ না হয়, আবার অতি সংক্ষিপ্ত না হয়। দেশে অনেক রাজনৈতিক দল আছে। একটি বর্ণাঢ্য সংসদের জন্য জনগণের কোন ব্যাক্তিকে না ভোট দিতে হবে দলকে।

 

-191

 

নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.