ট্রাম্পের শুল্কের প্রভাবে আকাশ ছোঁয়া আইফোনের দাম

ট্রাম্পের শুল্কের প্রভাবে আকাশ ছোঁয়া আইফোনের দাম

নবকণ্ঠ ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীনা পণ্যের ওপর আরোপিত ‘পাল্টা শুল্ক’ (রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ) আইফোনের দাম বিশ্বজুড়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বাজার বিশ্লেষকরা। রোজেনব্ল্যাট সিকিউরিটিজের গবেষণা বলছে, চীন থেকে আমদানিকৃত আইফোনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক বেড়ে ৫৪% হওয়ায় আইফোন ১৬-এর সর্বনিম্ন দাম ৭৯৯ ডলার থেকে বাড়তে পারে ১,১৪২ ডলারে। একইভাবে, প্রিমিয়াম মডেল আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্সের দাম ১,৫৯৯ ডলার থেকে লাফিয়ে ২,৩০০ ডলার হতে পারে। এতে অ্যাপলের বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৪০ বিলিয়ন ডলার।

অ্যাপল ইতিমধ্যে চীনের বাইরে ভিয়েতনাম ও ভারতে কিছু উৎপাদন সরিয়ে নিলেও সেখানকার শুল্কও এড়ানো যাচ্ছে না। ভিয়েতনামে শুল্ক ৪৬% এবং ভারতে ২৬%। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর শুল্ক কম থাকায় স্যামসাং এই সংকটে লাভবান হতে পারে বলে মনে করেন কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের নিল শাহ। তার মতে, আইফোনের দাম ৩০% বাড়লে চাহিদা কমতে পারে, যা প্রতিযোগী ব্র্যান্ডগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করবে।

রোজেনব্ল্যাটের বার্টন ক্রকেটের ধারণা, আলোচনার মাধ্যমে অ্যাপল ও চীন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, সিএফআরএ রিসার্চের অ্যাঞ্জেলো জিনো বলছেন, আইফোন ১৭ বাজারে আসা পর্যন্ত (২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) অ্যাপল দাম ৫-১০%-এর বেশি বাড়াবে না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আইফোনের বিক্রি কমার অন্যতম কারণ হিসেবে নতুন এআই ফিচারগুলোর সীমিত আকর্ষণকে দায়ী করা হচ্ছে।

বেশির ভাগ গ্রাহক মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে কিস্তিতে আইফোন কিনে থাকেন। তাই দাম বাড়লেও এর প্রভাব তাত্ক্ষণিকভাবে দেখা যাবে না। তবে দীর্ঘমেয়াদে প্রিমিয়াম সেগমেন্টে অ্যাপলের বাজার দখল কমতে পারে।

শুল্ক নীতির এই সংকট মোকাবিলায় অ্যাপল হয়তো উৎপাদন ব্যয় কমানো, শুল্ক ছাড়ের জন্য লবিং বা নতুন বাজার কৌশলের দিকে ঝুঁকবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে প্রযুক্তিপণ্যের দাম ও সহজলভ্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

 

-191

 

নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *