নবকণ্ঠ ডেস্কঃ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাজ্য থেকে সরাসরি ফ্লাইটে পৌঁছানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সূচনা করেছেন হামজা দেওয়ান চৌধুরী। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডারকে ঘিরে দেশজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অভূতপূর্ব উত্তেজনা। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) নিশ্চিত করেছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার আগে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি সিলেটে পৌঁছান। এরপর তিনি রওনা দিয়েছেন হবিগঞ্জের বাহুবলে তার পৈতৃক বাড়ির উদ্দেশে।
হামজার আগমনকে স্বাগত জানাতে বাহুবলের স্নানঘাট গ্রামের বাড়ি ও আশেপাশের এলাকা সাজানো হয়েছে আলোকসজ্জা ও ৫০০টিরও বেশি তোরণ দিয়ে। স্থানীয়রা জানান, গ্রামের প্রবেশপথ থেকে বাড়ি পর্যন্ত ৪-৫ কিলোমিটারজুড়ে চলছে উৎসবের প্রস্তুতি। সেখানে এক রাত অবস্থান শেষে তিনি ঢাকায় জাতীয় দলের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দেবেন। এরপর ২৫ মার্চ শিলংয়ে এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে অভিষেক হবে তার।
হামজা দেওয়ান চৌধুরীর এই অংশগ্রহণ বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইংল্যান্ডের লেস্টার সিটির মতো শীর্ষ ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই তারকা জাতীয় দলে যোগ দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলের প্রতিযোগিতামূলক ভাবমূর্তি জোরদান করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বাফুফে এবং কোচ দীপক কুমার রায়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে তার কৌশলগত দক্ষতা ও নেতৃত্ব দলের পারফরম্যান্সে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
তরুণ ফুটবলারদের জন্য হামজার এই যাত্রা একটি বড় প্রেরণা। উচ্চমাধ্যমিক ফুটবলে তার সাফল্য বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের জন্য বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রতিষ্ঠার স্বপ্নকে উজ্জীবিত করবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এদিকে, হামজার পরিবার ও স্থানীয় সমর্থকরা তার সাফল্য কামনা করে রেখেছেন প্রার্থনায়। বাংলাদেশ ফুটবলের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো খেলোয়াড় সরাসরি প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞতা নিয়ে জাতীয় দলে যোগদান করলেন—এই ঘটনাই দেশের ফুটবল ভবিষ্যতের দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
হামজা দেওয়ান চৌধুরীর আগমন বাংলাদেশ ফুটবলের গতিপথ বদলে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ভারতের বিপক্ষে তার অভিষেক ম্যাচ শুধু একটি খেলা নয়, বরং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের আত্মবিশ্বাস ও বৈশ্বিক অবস্থানকে প্রতিফলিত করবে বলেই প্রত্যাশা লক্ষ লক্ষ ভক্তের।
