France-recalls-ambassador-on-turkey-comments-2020

উত্তেজনা বাড়ছে, তুর্কী রাষ্ট্রদূতকে তলব করল ফ্রান্স

France-recalls-ambassador-on-turkey-comments-2020
উত্তেজনা বাড়ছে, তুর্কী রাষ্ট্রদূতকে তলব করল ফ্রান্স

ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁখোর মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন উল্লেখ করেছিলেন তুর্কী নেতা এরদোগান। এতে চটেছে ফ্রান্স প্রশাসন। এ মন্তব্যর যের এ তুর্কী রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এরদোগানের এ মন্তব্যকে “অগ্রহনযোগ্য” উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানিয়েছে ফ্রান্স।

সরাসরি মুসলিম ও ইসলাম-বিদ্বেষী ঘৃণা ও বিদ্বেষ প্রচারে যুক্ত হওয়ার কারণে ম্যাঁখোর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এ মন্তব্য করেছিলেন রিসেপ তাইয়েব এরদোগান। ফরাসী প্রেসিডেন্টের এহেন মানসিকতা সম্পর্কে সমালোচনার ঝড় বইছে সারা বিশ্বে। ফরাসী পণ্য বর্জনের ডাক আসছে। পণ্য বর্জনে রাষ্ট্রীয়ভাবে ডাক দিয়েছে কুয়েত।
কোনো ধর্মের প্রতি ঢালাও ভাবে বিদ্বেষ প্রচার সহ হজরত মুহাম্মদ (সা) কে নিয়ে চরম ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রদর্শন সহ নানা হঠকারী কথা-বার্তা বলায় কোনো দেশ প্রধানের সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার নজির একমাত্র ব্যক্তি ইমানুয়েল ম্যাঁখো।

তুর্কী নেতা অবশ্য আগেও বলেছেন, ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষকে ইউরোপের নেতারা নিজ ব্যর্থতা ঢাকতে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন- এটি নতুন কিছু নয়।

ন্যাটোভুক্ত দেশের মধ্যে ফ্রান্স ও তুর্কীর সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছে ঠিক যে মুহুর্তে ভূমধ্য সাগরে জলসীমা নিয়ে বিরোধ, লিবিয়া, সিরিয়া এবং আরেমেনিয়া-আজারবাইজানের নাগরনো-কারাবাখ নিয়ে মতপার্থক্য – সব মিলিয়ে আগুনে ঘি ঢালার মত অবস্থা।

ফ্রান্সে ব্যঙ্গ কার্টুন প্রদর্শনকারী বিতর্কিত ইসলাম-বিদ্বেষী শিক্ষকের খুন হওয়ার পরে ফরাসী প্রেসিডেন্ট নিজ নেতৃত্বে একটি “ঘৃণার ক্যাম্পেইন” চালু করেন, যার নাম দেয়া হয় ফ্রান্সের ধর্ম নিরপেক্ষ আদর্শ রক্ষার ক্যাম্পেইন। প্যারিসের বিভিন্ন স্থাপনায় হযতরত মুহাম্মদ (সা) এর ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন প্রদর্শ করে সেটিকে “ধর্মনিরপেক্ষতা” ও “বাকস্বাধীনতা” বলে চালানো হয় এ ক্যাম্পেইনে। আঙ্কারার হঠাৎ ক্ষোভের মূলে রয়েছে মূলত এই ইসলাম বিদ্বেষি “ঘৃণার ক্যাম্পেইন”।

তুরষ্কের আনাতলিয়ান শহর কায়সারিতে একটি টিভি চ্যানেলে এরদোগান বলেন “কি আর বলা যায় এমন একজন রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যাপারে যিনি ভিন্ন বিশ্বাসের কোটি কোটি মানুষের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেন এই পন্থায়- আগে তার মানসিক অবস্থার চেকাপ করানো উচিত।” “ইসলাম এবং মুসলিম নিয়ে ম্যাঁখোর সমস্যাটা কোথায়- বলে প্রশ্ন করেন তিনি। এছাড়াও আসন্ন ২০২২ সালের নির্বাচনে তার মত বিদ্বেষী ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হোক তা তিনি আশা করেন না বলেও তিরষ্কার করেন।

এদিকে ফরাসী রাষ্ট্রদূতকেও প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ ডেকেছেন চলমান সাংঘর্ষিক বিষয় নিয়ে যিনি শীঘ্রই প্যারিসের মতামত জানাবেন আঙ্কারাকে।

নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.